বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

খুনীদের ধরতে খুব কাছাকাছি আমরা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রেজাউল করিম সিদ্দিকী সত্যিকার অর্থেই একজন আদর্শ শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষাদানের জন্যই তিনি ক্যাম্পাসে আসছিলেন। শিক্ষক রেজাউল করিম সিদ্দিকীর হত্যাকাণ্ডের খুনীদের ধরতে খুব কাছাকাছি এসেছি আমরা। তদন্তের স্বার্থে আমরা অনেক কিছুই বলব না। বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

“আমরা খুব শিগগিরই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের জনসম্মুখে হাজির করব এবং খুনীদের যেন যথাযোগ্য বিচার হয় সে কাজটিও আমরা করব। অনিরাপত্তার স্বার্থে এ মুহূর্তে কিছু বলতে চাই না। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকারীদের আপনাদের সামনে হাজির করা হবে। আমরা প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডকে গুরুত্বেও সঙ্গে দেখছি। আমরা কোনটাতে পিছুপা হইনি এবং কোনটাতেই ব্যর্থ হইনি।”

শনিবার দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শিক্ষক সমিতির আয়োজিত রেজাউল করিম সিদ্দিকীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শিক্ষক-ছাত্র ও সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা জনগণের সহায়তায় বিশ্বাস করি। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছেন। সারা রাজশাহীতে দৃশ্যমান টহল বৃদ্ধি করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী নিরাপত্তারহীনতায় ভুগছেন এই স্বার্থে অতি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও সারা রাজশাহীতে বাড়তি নিরাপত্তা বাহিনী টহল দেয়া হবে বলে প্রতিশ্রতি দেন তিনি।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোন হত্যাই আমরা তুচ্ছ করে দেখি না। দেশ ও জাতি এসব হত্যাকারীদের পক্ষ নয়। যেহেতু আমরা খুব কাছাকাছি এসে পড়েছি। আন্দোলন পরিত্যাগ করে ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ হত্যাকাণ্ড প্রথম নয়। এর আগে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়টি সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রায় ৩৪ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। এটি ২য় এবং পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয় দেশ-বিদেশে বিশেষ অবদান রাখছে। এসব শিক্ষার্থীদের অদর্শরূপে গড়ে তোলার মূল চালিকা শক্তি হল শিক্ষকরা। আমরা শিক্ষকের হত্যা কখনো মেনে নিতে পারি না। শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেত হবে। যদি নিরাপত্তা না থাকে তাহলে কিভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করবে? আমরা চাই না কোন শিক্ষকের আর প্রাণ ঝরুক। আমরা শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ চাই।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এমপি বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয় অনেক ইতিহাসের সাক্ষী। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে জোহা স্যার শায়িত আছেন। এর আগের হত্যাকাণ্ডগুলো অন্য ধারায় প্রবাহিত করা হয়েছে। অপনারা ভীত হলে আমরা দিনে এগিয়ে যেতে পারব না। আবারও কয়েকদিন আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন তরুণ শিক্ষককে হুমকি দেয়া হয়েছে। একজন শিক্ষককে যখন নির্দিষ্ট করে হুমকি দেয়া হয় তখন তদন্ত করলে হুমকিদাতাদের এখন থেকে খুঁজে বের করা সম্ভব। সকল বিচার ক্ষান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সঙ্গে আছি ও থাকব।

পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহিদুল হক বলেন, বক্তব্য দেবার কথা নয়। জবাব দেবার কথা। তদন্তের অনেকগুলো বিষয় আছে। সব বিষয় জনসম্খুখে প্রকাশ নিষেধ থাকে। আমরা ভিতরের কাজ করি।

আপনাদের পুলিশের উপর আস্থা থাকতে হবে। আমাদের যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাতে কোন গাফলতি নেই। অতি শিগগিরই শিক্ষক হত্যাকারীদের খুঁজে  বের করা হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর মো. শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর শাহ্ আজম এর পরিচালনায় শিক্ষক-ছাত্র ও সুধী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, প্রো-ভিসি প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, নিহত অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীর কন্যা রেজওয়ানা প্রমুখ।

আরও পড়ুন