শুক্রবার ৬ নভেম্বর ২০২৬

‘সমাজচ্যুত’ সেই হিন্দু নারী সমাজে ফিরলেন

Moulovi3মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় দ্বিতীয় বিয়েয় কারণে একঘরে করে রাখা সেই নারীকে সমাজে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিজলী গ্রামের মুক্তেশ্বর দেবনাথের মেয়ে টপি দেবনাথকে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ দিয়ে সমাজে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলে কুলাউড়া থানার ওসি শামসুদ্দোহা জানান।

দ্বিতীয় বিয়ের কারণে টপিকে পাঁচ বছর ধরে একঘরে করে রেখেছিল সমাজপতিরা।

ওসি সংবাদিকদের বলেন, গণমাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি বিজলী গ্রামের হিন্দু সমাজপতিদের ডেকে আনেন। আলোচনার পর তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাকে নিমন্ত্রণ জনানোর মধ্য দিয়ে আবার সমাজে ফিরিয়ে নেয়।

সমাজপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথ বলেন, এখন থেকে টপির উপর আর কোনো সামাজিক প্রতিবন্ধকতা নেই। টপির বিপদে-আপদে তারা তাকে সহায়তা করবেন বলে জানান।

টপি দেবনাথ বলেন, “আজ নিজেকে মুক্ত মনে হচ্ছে। এত দিন যেন বন্দিদশায় ছিলাম।”

দেরিতে হলেও সমাজ তাকে ফিরিয়ে নেওয়ায় তিনি খুশি।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের মৌলভীবাজার জেলা শাখাসহ সাংবাদিক ও অন্য যারা তার পাশে ছিল তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন টপি দেবনাথ।

ভুক্তভোগী টপি দেবনাথ বিজলী গ্রামের মুক্তেশ্বর দেবনাথের মেয়ে। টপি বলেন, “প্রথম বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় এক ছেলে রেখে আমার স্বামী দীঘলবাগ গ্রামের সত্যেন্দ্র দেবনাথ মারা যান। এরপর বিকাশ মিত্রকে বিয়ে করে বিজলী গ্রামে বাবার বাড়ি থাকি। সমাজপতিরা আমাকে শুধু এক ঘরে করেই ক্ষান্ত হয়নি। দ্বিতীয় স্বামী বিকাশকে ভয়ভীতি দেখিয়ে গ্রামছাড়া করেছে।”

বিকাশকে বাড়িছাড়া করার পর টপিকে সিঁদুর মুছে ফেলতে চাপ দেওয়া হয় বলেও তার অভিযোগ।

টপির মা প্রণতি রানী দেবনাথ বলেন, “আমাদের কোনো অনুষ্ঠান এমনকি সর্বজনীন পূজায়ও অংশ নিতে দেওয়া হয় না।অন্যদিকে বিপাকে পড়েছে আমার একমাত্র ছেলে প্রাণেশ দেবনাথ। টপিকে বাড়ি থেকে বের করে না দেওয়ায় তার বিয়ের সমন্ধ আসতে দিচ্ছে না মুরব্বিরা।”

এ অবস্থায় পরিবারটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

আরও পড়ুন