একই কায়দায় সন্দেহভাজন জঙ্গি গোষ্ঠীর হাতে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে ব্যর্থতার মধ্যেই প্রতিরোধে জোর দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
তিনি বলেছেন, “আমরা সন্ত্রাসী দ্বারা আক্রান্ত হতে চাই না, আমরা প্রতিরোধ করতে চাই। আক্রমণকে আমরা আগের থেকে শনাক্ত করতে চাই।”
সোমবার সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক মুখ্য উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম টডের সঙ্গে বৈঠকের পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের একথা বলেন।
গত বছর ফেব্রুয়ারিতে লেখক অভিজিৎ রায়কে ঢাকায় হত্যার পর আরও হামলার হুমকি দিয়ে ইন্টারনেটে বার্তা এসেছিল জঙ্গি গোষ্ঠীর নামে।
ওই বছর তারপর হত্যা করা হয় অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ওয়াশিকুর রহমান বাবু, ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস, নিলাদ্রী চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনকে।
এছাড়া আক্রান্ত হন বিদেশি, আহমদিয়া ও শিয়া মুসলিম, খ্রিস্টান যাজক ও হিন্দু পুরোহিতরা। এর প্রায় সব ক্ষেত্রেই জঙ্গিরাই সন্দেহভাজন।
এই বছর গত মাসে খুন হন অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নাজিমুদ্দিন সামাদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী, সমকামী অধিকারকর্মী জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব রাব্বী তনয়।
জঙ্গি হামলা ঠেকাতে সরকার আন্তরিক নয় বলে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে বলে ব্লগার, অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের অভিযোগ।
এই সমালোচনার মধ্যেই প্রতিরোধের কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে প্রতিরোধের উপায় তিনি স্পষ্ট করেননি।
নিহতদের মধ্যে অভিজিৎ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সাবেক কর্মকর্তা জুলহাজ ছিলেন ইউএসএআইডিতে কাজ করতেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা সংক্রান্ত কয়েকজন বিশেষজ্ঞও ছিলেন।
আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, “তারা বাংলাদেশকে সাহায্য করতে তাদের ইচ্ছার কথা বলার জন্য এসেছেন। আমরা কীভাবে তাদের এই টেকনোলজি বা টেকনিক্যাল সাহায্য নিতে পারি, সে নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
বাংলাদেশে এসব হত্যাকাণ্ডে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীর কোনো যোগসূত্র নেই বলে আবার দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যা তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদেরও জানিয়েছেন।
“আমাদের বাংলাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে যেটা হচ্ছে, সেটা হলো আমাদের দেশীয় সন্ত্রাসী দ্বারা আমরা আক্রান্ত হচ্ছি। তবে আমরা এই দেশীয় সন্ত্রাসী দ্বারা আক্রান্ত হতে চাই না।”
সন্ত্রাস মোকাবেলায় বাংলাদেশ ‘সঠিকভাবে’ কাজ করছে বলেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন বলে জানান আসাদুজ্জামান কামাল। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রশিক্ষণে সহায়তা চেয়ে সাড়া মিলেছে বলেও জানান তিনি।
“আমরা চেয়েছি, সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করার আগে তা প্রতিরোধ করতে চাই। সেটাই আমরা তাদের বলেছি। তারা বলেছেন, তারা সহযোগিতা করবেন।”
নিরাপত্তার বিষয়ে বিভিন্ন দূতাবাসের চিঠির বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “দু-একটা যে আক্রমণ হচ্ছে না, তা তো আমরা বলছি না। সেজন্য হয়ত কেউ শঙ্কা প্রকাশ করছেন। আমাদের চিঠি দিয়েছেন।
“আমরা দূতাবাস পল্লীতে বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দিয়েছি। যার জন্য তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।”
সরকারের পক্ষ থেকে যে ষড়যন্ত্রের কথা বারবার বলা হচ্ছে, তা কি দেশের ভেতরে, না বাইরের- সেই প্রশ্ন করা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।
তিনি বলেন, “ষড়যন্ত্র দেশের ভেতর থেকে হচ্ছে, বাহির থেকেও আসছে। সেটা নিয়ে আমরা একত্রিতভাবে কাজ করার কথা বলেছি তাদের (যুক্তরাষ্ট্র)।”
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট সাংবাদিকদের বলেন, সন্ত্রাস মোকাবেলায় তার দেশ কীভাবে বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটির প্রধান ডিআইজি মনিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।


