ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার উৎখাতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর ১০ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ।
সোমবার সকালে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, আজ তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
সরকার ও তার দলের পক্ষ থেকে কয়েকদিন ধরে অভিযোগ করা হচ্ছে যে, বিএনপির এই নেতা ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছেন।
এ অভিযোগে রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড ৩শ’ ফিট সড়ক থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন যুগান্তরকে বলেন, আসলাম চৌধুরীকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজ তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা করা হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আসলাম চৌধুরীরীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দেয়া হবে। এরপর তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
সম্প্রতি ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে তার বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়। এরপর থেকে গুঞ্জন ছিল আসলাম চৌধুরী গ্রেফতার হচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, তিনি গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন।
রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার বৈঠক এবং যোগাযোগের তথ্য-প্রমাণ সরকারের কাছে রয়েছে। তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে তাদের গ্রেফতার করা হবে।
সরকারের এমন অভিযোগ ও হুঁশিয়ারের মধ্যেই রোববার আসলাম চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হল।
আসলাম চৌধুরীর গ্রেফতারের পর বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতা এখন আতংকে আছেন। তারা মনে করছেন, সরকার এ অভিযোগে তাদের অনেককে গ্রেফতার করে দলটিকে চাপে রাখতে চায়।
৯ মে নয়াদিল্লিতে ইসরাইলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান ও লিকুদ পার্টির নেতা মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বৈঠকসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ইসরাইলের সংবাদ মাধ্যম ‘জেরুজালেম অনলাইন ডটকম’ এ প্রকাশিত হয়। সেই সূত্রের বরাদ দিয়ে বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমেও মেন্দির সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর বৈঠকসংক্রান্ত বেশকিছু ছবি ও সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিএনপি ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে বলেও দাবি করেন দলের কোনো কোনো নেতা ও সরকারের মন্ত্রী। তবে গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবরকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলছে বিএনপি। বিএনপিকে আন্তর্জাতিকভাবে হেয় করতেই এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ইসরাইলের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই।
আসলাম চৌধুরী যুগান্তরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বৈঠকের কথা স্বীকার করে বলেন, মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে কিন্তু তিনি যে মোসাদের এজেন্ট বা লিকুদ পার্টির নেতা তা জানতেন না। পরে হয়তো বুঝতে পেরেছেন তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। কারও ফাঁদে পা দিয়েছেন। বিষয়টি ছিল তার একান্ত ব্যক্তিগত। দলের হাইকমান্ড এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না।


