প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘গ্লোবাল উইমেন লিডারস ফোরাম’-এ যোগদানের উদ্দেশ্যে তিনদিনের সরকারি সফরে বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় যাওয়ার পথে গতকাল বোরবার লন্ডন পৌঁছেছেন। তার আগমনের খবর শুনে সরকারী দলের নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা জানানোর আয়োজন করে অন্যদিকে বিএনপিসহ ২০দলীয় বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা কালো পতাকা প্রদর্শন ও প্রতিবাদী বিক্ষোভের আয়োজন করে।
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এ সময় হাইকমিশনের অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র পুত্র এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫৭ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট (বিজি-০০৫) প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফর সঙ্গীদের নিয়ে লন্ডন পৌঁছে।
যুক্তরাজ্য সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেমন ফুলেল শুভেচ্ছায় অভিসিক্ত হয়েছেন তেমনি অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী অবস্থান করা বাকিংহাম গেটের তাজ হোটেলের সামনে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ ও বিএনপি পরস্পর মুখোমুখি হলেও শেষ পর্যন্ত তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়। যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কয়েক শত নেতাকর্মী লন্ডন ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে ফুল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে আসে।অপর দিকে যুক্তরাজ্য বিএনপিসহ ২০দলীয় বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা কালো কাপড় পড়ে নানান রংয়ের বেনার ফ্যাস্টুন নিয়ে হোটেলের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে।
শেখ হাসিনার লন্ডন সফরের প্রথম দিনে বাংলাদেশে অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, হত্যা, হামলা, মামলা, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ও বিচারিক হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য বিএনপিসহ ২০দলীয় বিরোধী দলের কয়েক হাজার নেতাকর্মীরা ওই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে। প্রতিবাদকারীরা হাসিনার পতন দাবি করে শ্লোগান দিতে থাকে। এছাড়াও, বিভিন্ন ব্যঙ্গ বিদ্রুপ পূর্ণ ফেস্টুন, প্লেকার্ড ও ব্যানার নিয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়। এসময় তার গাড়িকে লক্ষ্য করে বিএনপি’র কয়েকজন কর্মী ডিম ও পানির বোতল নিক্ষেপ করলে পুলিশ ৩জনকে গ্রেফতার করে। পরে অবশ্য তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
এ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে সেভ বাংলাদেশের ব্যানারে অংশ নেয় যুক্তরাজ্য জামায়াত সমর্থক প্রচুর প্রবাসী বাংলাদেশী । ইউরোপ জামায়াতের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লার নেতৃতে বিপুল সংখ্যক জামায়াত সমর্থক তাদের আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাসির নামে হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধেও শ্লোগান দেয়। ব্যানার ও ফেস্টুন উঁচু করে প্রতিবাদ জানায়।
বিক্ষোভ কর্মসূচী প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক বলেন, বাংলাদেশের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে। গণতান্ত্রীক দেশ বৃটেনে কোনো স্বৈরাচারের জায়গা হবেনা। যেখানেই হাসিনা সেখানেই প্রতিরোধ এই মর্মে শপথ নিয়ে কর্মসূচী সফল করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারী ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ কালে জানা গেছে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে যতদিন থাকবেন ততদিন তারাও শুভেচ্ছা ও প্রতিবাদ জানাতে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের পাশে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগেই লন্ডন এসে পৌঁছান তার ছেলে জয়। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় লন্ডনের বার্কিংহাম গেটস্থ তাজ হোটেলে। লন্ডনে যাত্রা বিরতিকালে এ হোটেলেই অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী। হোটেলে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান দলীয় নেতাকর্মীরা।এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে হোটেলেই অবস্থান করছিলেন শেখ রেহানা, টিউলিপ সিদ্দিক এমপি ও তার শিশু কন্যা আজালিয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের অন্য সদস্যরা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার নারী নেতাদের উপস্থিতিতে ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মূল বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করবেন বলে তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ইতোমধ্যে জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর সোয়া ১টায় সোফিয়ায় পৌঁছাবেন শেখ হাসিনা। ওইদিন বিকালে বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট রোসেন প্লেনেলিয়েভের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তিনি। বিকালে উইমেন লিডারস ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর রাতে ইউনেস্কো মহাসচিব ইরিনা বোকোভার দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন। শুক্রবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বয়কো বরিসভ। বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি চুক্তিও হতে পারে। সফর শেষে শুক্রবার রাতে সোফিয়া থেকে রওনা হয়ে শনিবার সকালে ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।


