ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে সাংসদ সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠবস করানোর পর যদি অন্যায়ভাবে তাকে বরখাস্ত করা হয়, তবে আইন তার পক্ষে থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। বলেছেন, ‘আমি তো এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না। খোঁজ-খবর নিয়ে দেখব।’
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন মন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যদি তাকে (শ্যামল কান্তি) অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করা হয়, তবে আইন তার পক্ষে থাকবে। আর যদি ন্যায়সঙ্গত ভাবে বরখাস্ত করা হয়, তাহলে তো আইন তার বিপক্ষে থাকবে।’
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের গুজব তুলে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছিত ও এমপি সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে কান ধরে ওঠ-বস করার পর মঙ্গলবার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি।
এর আগে দুপুরে সাময়িক বরখাস্তের চিঠিটি নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্যামল কান্তি ভক্তের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ফারুকুল ইসলামের সোমবার স্বাক্ষর করা চিঠিতে শ্যামল কান্তি ভক্তকে চারটি অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করার কথা বলা হয়েছে।
গত শনিবার ইসলাম ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে বিদ্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে তাকে কান ধরে ওঠ-বস করানো হয়।
এদিকে যে শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়ার সময় শ্যামল কান্তি ভক্ত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কথা বলেছেন বলে জানানো হয়েছিল, রিফাত নামের দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাতকারে বলেছে, ‘স্যার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কোনো কথা বলেননি।’


