বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

‘ঢাকায় তুরস্কের দূতাবাস না হলেও চলবে’

turkish_embassy_in_dhaka_640x360_turkishembassyমানবতাবিরোধী অপরাধী জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যাকরের প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা থেকে ফিরিয়ে নেওয়া তুরস্কের রাষ্ট্রদূততে আর বাংলাদেশে নিয়ে আসার প্রয়োজন দেখছে না সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে ফোরামের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহ বীরউত্তম ও মহাসচিব সাংবাদিক হারুন হাবীব এ মত প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের তুরস্কের দূতাবাস না থাকলে কোনো সমস্য হবে না বলেও মত প্রকাশ করেন কে এম সফিউল্লাহ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ নিয়ে পাকিস্তানের মতো তুরস্কও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা করে আসছে।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে গত ১০ মে মধ্যরাতে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজমীর ফাঁসির পর পরিস্থিতি পর্যালোচনার কথা বলে ঢাকা থেকে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ডেভরিম ওসতুর্ককে আঙ্কারায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

ফাঁসির প্রতিবাদ না করায় ইউরোপের নেতাদের ওপর খেদও ঝেড়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তায়েপ এরদোয়ান।

শিল্পকলা একাডেমিতে ফোরামের ঢাকা বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সফিউল্লাহ বলেন, “পাকিস্তানি দালালদের ফাঁসি হলে পাকিস্তান কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক। নিজামীর ফাঁসির পর তারা আমাদের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে খারাপ চিঠি দিয়েছে, আমরাও তাদের রাষ্ট্রদূতকে ডেকেছি।

“তুরস্কে এখন যারা ক্ষমতায় তারা জামায়াতের লোক। জামায়াতের কারও ফাঁসি হলে তারা কথা বলতে পারে। এর প্রতিক্রিয়ায় তারা রাষ্ট্রদূতকে তুরস্কে নিয়ে গেছে। তাকে ফেরত আনার দরকার নাই। তুরস্কের দূতাবাস না হলেও আমাদের চলবে।”

২০০২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এরদোয়ানের দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি মুসলিম বিশ্বে তুরস্কের প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বাংলাদেশে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার শুরুর পর বিভিন্ন সময়ে এর বিরোধিতা করেছে তারা।

নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের পর আঙ্কারায় এক অনুষ্ঠানে এর প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে বাংলাদেশ সরকারেরও সমালোচনা করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক হারুন হাবীব বলেন, “তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ায় অবিলম্বে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা-না রাখার বিষয়টি সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঠিক করতে হবে। কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করা হোক। তাদেরকে ছাড়াও আমাদের চলবে।”

বক্তারা সারাদেশে একজন যুদ্ধাপরাধীও বেঁচে থাকা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া চালু রাখা, পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচার প্রক্রিয়া শুরু এবং পাকিস্তানের কাছ থেকে সম্পদের ন্যায্য হিস্যা আদায়ের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধে এস ফোর্সের অধিনায়ক সফিউল্লাহ আরও বলেন, যারা আমাদের রক্ত ঝরিয়েছিল তারা পতাকা নিয়ে ক্ষমতায় থাকবে- এটা তো সহ্য করা যায় না।

“…অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলাম, সেই অস্ত্র অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য তো যুদ্ধ করি নাই।”

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পাকিস্তানিরা মাথা নত করেছিল। তাদের দোসরদেরও মাথা নত করতে হবে। গ্রামে-গঞ্জে যুদ্ধাপরাধীদের খুঁজে বের কর। আত্মীয়তার কারণে আড়াল করে দিও না। অপরাধীকে তার অপরাধের যোগ্য শাস্তি পেতেই হবে।”

সিমলা চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ছেড়ে দেওয়া হয় জানিয়ে হারুন হাবীব বলেন, “পাকিস্তান তাদের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়েছিল। তারা যেহেতু বিচার করেনি, আমাদের এখানে বিচার কাজ শুরু করতে হবে।”

“একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে যে ন্যায্য হিস্যা আছে সেটা ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।”

ঢাকা বিভাগীয় কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি আবুল হাসেম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি নুরুল আলম, সাবেক রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল আলম শহীদ, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল শেখ দলিল উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সহসভাপতি মীর মোহাম্মদ আসালত ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান দেওয়ান বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগীয় কমিটির ২৫ জন সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।

আরও পড়ুন