বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে গ্রেগরির বৈঠক: নিরাপত্তা ইস্যুতে সহায়তা দিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র

index-jug_13444_1463625745নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে যাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠকে সফররত কূটনৈতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রেগরি বি স্টার একথা জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বৈঠকের পর যুগান্তরকে বলেন, ‘গ্রেগরি স্টারের এটি রুটিন বাংলাদেশ সফর। তিনি বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তার ইস্যু দেখাশোনা করেন। বাংলাদেশে তাদের টিম কীভাবে কাজ করছে, সেটা আমাদের বলেছেন। অপরদিকে, আমরাও কূটনৈতিক এলাকাসহ সার্বিক নিরাপত্তায় কী করছি সেটা তাকে বলেছি। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার বাড়তি কোনো উদ্বেগ নেই। নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন তিনি।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ কর্মকর্তা বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জগুলো বুঝেন। ফলে তিনি সার্বিক পরিস্থিতির ব্যাপারে একটি আপডেট নিয়েছেন।’ এদিকে গ্রেগরি স্টার বুধবার পুলিশের মহাপরিদর্শক শহিদুল হকের সঙ্গেও পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেছেন।

সেখানে কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বলে পুলিশ সদর দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। গ্রেগরি স্টার আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোজাম্মেল হক খানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ব্লগার, শিক্ষক, প্রকাশক, বিদেশী নাগরিক, ধর্মীয় ও গোষ্ঠীগত সংখ্যালঘুদের ওপর চোরাগোপ্তা হামলার পর বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে মার্কিন সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডি কর্মকর্তা ও সমকামী অধিকার কর্মী জুলহাজ মান্নান নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখায়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জুলহাজ মান্নান হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার করার আহ্বান জানান। কেরি টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার লক্ষ্যে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালকে ঢাকায় পাঠাতে চান। তার প্রস্তাব মোতাবেক ৪ থেকে ৬ মে বাংলাদেশ সফর করেন নিশা বিসওয়াল। তিনি জুলহাজ মান্নানসহ সব হত্যার তদন্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে চায় বলে জানান। নিশার এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। তার পরপরই কী ধরনের সহযোগিতা করা যায়, তার একটি পর্যালোচনা করতে ঢাকায় আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুখ্য উপসহকারী মন্ত্রী উইলিয়ম টডের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। ১৪ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করে এ প্রতিনিধি দল।

উইলিয়াম টড বাংলাদেশ ত্যাগ করার পরপরই বুধবার ঢাকায় আসেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক নিরাপত্তাবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী গ্রেগরি বি স্টার। তার সফরের প্রথম দিনেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিদেশী কূটনীতিক ও কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিসহ সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এরই মধ্যে বলেছেন যে, কূটনৈতিক অঞ্চলের নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য তারা সরকারের কাছে আবেদন করেছেন। সম্প্রতি উইলিয়াম টডকে সঙ্গে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের একথা বলেন বার্নিকাট।

এদিকে বিদেশী কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তার আবেদন এবং গ্রেগরি স্টারের সফরকে সামনে রেখে সম্প্রতি কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে পুলিশসহ নিরাপত্তা সংস্থার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গুলশানের কূটনৈতিক এলাকায় ইতালির নাগরিক সিজারি তাভেল্লা হত্যার পর থেকে কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্তরে তল্লাশি, পুলিশের টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সিসিটিভির মাধ্যমে কূটনৈতিক এলাকায় উচ্চ নিরাপত্তা বহাল আছে।

তাভেল্লা হত্যার পর থেকেই বিভিন্ন দেশ নিজেদের কূটনীতিক ও তাদের দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করে রেখেছে। তার আওতায় কূটনীতিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হেঁটে কিংবা সাইকেল বা রিকশার মতো খোলা যানবাহনে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। জন সমাগমস্থলও তারা পরিহার করে চলছেন।

আরও পড়ুন