বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু: সরিয়ে নেয়া হচ্ছে সাড়ে ২১ লাখ মানুষকে

Del402338
Del402338

বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ বাংলাদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসায় শুক্রবার রাত ৮টার মধ্যে উপকূলীয় এলাকার মানুষজনকে সরে যেতে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। এরই মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ শাহ কামাল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে চট্টগ্রাম, পায়রা ও মংলা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর ‘বিপদ সংকেত’ দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কক্সবাজারকে দেখাতে বলা হয়েছে ৬ নম্বর ‘বিপদ সংকেত’। চট্টগ্রাম ও তার আশপাশের জেলার উপকূলে সাত নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী ঘুর্ণিঝড় শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা নাগাদ বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন বলেন, “বিপদ সংকেতের মানে হচ্ছে, বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতার এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়েছে। ঝড়ে সময় বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার থাকবে।”

জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান জানান, সন্ধ্যা ৬টায় ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৮৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম, পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম এবং মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। সে সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়োহাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। মান্নান বলেন, “আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখে দেখেছি, ঘূর্ণিঝড়টি এখন ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করছে।”

শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকায় অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সচিব শাহ কামাল বলেন, “শুক্রবার রাত ৮টার মধ্যে তাদের সরিয়ে নিতে সারাদেশে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ১৮ জেলার সাড়ে ২১ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হবে।”

সচিব শাহ কামাল বলেন, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে এমন ১৮টি জেলার ৩৮৫১টি আশ্রয়কেন্দ্রে এসব মানুষকে আনা হবে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা, খাওয়া ও চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন