বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী যে কেবল ভারতের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলি এজেন্টের সাথে বৈঠক করেছেন তা নয়, তিনি বিশেষ ব্যবস্থায় ইসরায়েল সফরও করেছেন- এমন দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার হল রুমে শনিবার দুপুরে গণতান্ত্রিক লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এমন দাবি করেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, মোসাদের এজেন্টের সাথে যখন আসলাম চৌধুরীর বৈঠকের সচিত্র খবর প্রকাশ করা হয় তখন বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে তা অস্বীকার করা হয়। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে আসলাম চৌধুরীর যখন স্বীকার করেন তখন বিএনপি মুখে কুলুপ দেয়।
তিনি বলেন, আসলাম চৌধুরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে স্বীকার করেছেন যে দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশেই তিনি ইসরায়েল প্রতিনিধির সাথে বৈঠক করেছেন। আর মোসাদের সে এজেন্টের অবস্থা ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাই না সে অবস্থার মতো। সে এজেন্ট বিবিসির কাছে সাক্ষাৎকারে আসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন। এতেই প্রমাণিত হয়েছে যে ইসরায়েলের গোয়েন্দা বাহিনীর সাথে যুক্ত হয়ে বিএনপি দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাথে কাজ করার পুরস্কার হিসেবে বিএনপিতে আসলাম চৌধুরীর প্রমোশন হয়েছে বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।
তিনি বলেন, বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। সেখান থেকে দলের অনেক সিনিয়র নেতাদের উপেক্ষা করে খালেদা জিয়া আসলাম চৌধুরীকে সরাসরি দলের যুগ্ম মহাসচিব বানিয়েছেন। এর পেছনে দুটো কারণ আছে। প্রথমত ইসরায়েলের সাথে কাজ করার জন্য পুরস্কার হিসেবে অপরটির হলো ব্যাংক থেকে চার (৪) হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছেন যে টাকা বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে হয়তো ভাগ হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো সেই চার হাজার কোটি টাকার মধ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতারা কত করে পেয়েছেন?
বিএনপি চেয়ারপারসনের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বলেন, নির্বাচন আসলেই খালেদা জিয়া কড়া মুসলমান হয়ে যান। অথচ মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় শত্রু ইসরায়েলের সাথে যুক্ত দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বিএনপি জোটে যে সকল ইসলামী দল আছে তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলছি আপনারা বিএনপিকে বর্জন করুন, না হয় মুসলিম জাহান ও মানবতার শত্রু ইসরায়েলের সাথে যুক্ত হয়ে দেশবিরোধী এ ষড়যন্ত্রের অংশীদার হিসেবে আপনারাও গণ্য হবেন। সংগঠনের সভাপতি এম এ আজিজের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, হারুনুর রশীদ, বলরাম পোদ্দার, হাসিবুর রহমান মানিক প্রমুখ।


