আজ পবিত্র শবে বরাত। তাত্পর্যপূর্ণ এই রাতে বিশেষ বরকত হাসিলের মানসে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা আজ দিন শেষে রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, মিলাদ-মাহফিল, নফল নামাজ আদায় ও কোরআন তেলাওয়াতে মশগুল থাকেন। আর পরবর্তী দিন রোজা রাখেন। কেউ কেউ তিনটি নফল রোজা পালন করেন।
শবে বরাত উপলক্ষে সোমবার সরকারি ছুটি। এ রাতের তাত্পর্য তুলে ধরে রেডিও-টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। সংবাদপত্র প্রকাশ করবে বিশেষ ক্রোড়পত্র।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।
শবে বরাতকে ‘লাইলাতুল বারাআত’ নামেও অভিহিত করা হয়। শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হয়। হাদীস শরীফে একে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা মধ্য শাবানের রাত্রি নামে অভিহিত করা হয়েছে। আর পক্ষকাল পরেই আসবে মাহে রমজান। এ হিসাবে আগামী ৭ জুন থেকে সূচনা ঘটবে রহমত বরকত নাজাতের মাস রমজানের। লাইলাতুল বারাআত মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা প্রশিক্ষণের পূর্ব প্রস্তুতিস্বরূপ। এজন্য একে বলা হয় রমজানের মুয়াজ্জিন বা পতাকাবাহী। মূলত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতে এ রাতটি শবে বরাত হিসেবে পরিচিত। আরববাসীরা এ রাতকে ‘লাইলাতুন নিসফে মিন শাবান’ বলেন।
হাদীসে বর্ণিত আছে-সূর্য অস্তমিত হওয়ার পরক্ষণ থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নূরের তাজালি পৃথিবীর কাছাকাছি আসমানে প্রকাশ পায়। তখন আল্লাহপাক বলতে থাকেন আছে কি কেউ ক্ষমাপ্রার্থী? যাকে আমি ক্ষমা করব, আছে কি কেউ রিজিকপ্রার্থী? যাকে আমি রিজিক প্রদান করব। আছে কি কেউ বিপদগ্রস্ত? যাকে আমি বিপদমুক্ত করব। আল্লাহপাকের মহান দরবার থেকে প্রদত্ত এ আহ্বান অব্যাহত থাকে ফজর পর্যন্ত। বস্তুত শবে বরাত হলো আল্লাহপাকের মহান দরবারে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ সময়। আল্লাহপাকের নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভের এক দুর্লভ সুযোগ এনে দেয় এই শবে বরাত। অতএব, প্রতিটি কল্যাণকামী মানুষের প্রধানতম কর্তব্য হলো এ সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা। আল্লাহপাকের ইবাদত-বন্দেগিতে পূর্ণ রাত অতিবাহিত করা। সাধ্যমত দান-খয়রাত করা। হাদীস শরীফে আছে যে, রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি শাবানের ১৫ তারিখে রোজা রাখবে তাকে জাহান্নামের আগুন ছোঁবে না।
সারা বাংলাদেশে আজ ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ যথাযথ মর্যাদায় ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র শবে বরাত পালন করবে। শবে বরাত উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি মসজিদে ওয়াজ মাহফিল, জিকির-আজকারের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন আলোচনা এবং মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আজ রাতভর ওয়াজ মাহফিল, জিকির-আজকারের ব্যবস্থা করেছে। বাদ এশা থেকে বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরামগণ ওয়াজ করবেন। ফজরের নামাজশেষে ভোরে মোনাজাত পরিচালনা করা হবে।


