বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

শপথ গ্রহণ ২৭ মে: শেখ হাসিনা প্রণব ও মোদিকে আমন্ত্রণ

mamata_banerjee_13765_1463885642মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেয়ার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন মমতা ব্যানার্জি। মোদি ও সোনিয়া দু’জনেই বিধানসভা ভোটের প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে এসে মমতাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। কিন্তু সব ভুলে ‘ঐতিহাসিক জয়’ এবং দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার সময় প্রায় সমস্ত সর্বভারতীয় নেতাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন তিনি। বিহারের নীতিশ কুমার, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, উত্তর প্রদেশের অখিলেশ যাদব এবং তামিলনাড়ুর জয়ললিতা- এই চার মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও লালুপ্রসাদ যাদব, মুলায়ম সিং যাদবসহ বিজেপি ও কংগ্রেসবিরোধী একাধিক নেতাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন তৃণমূলনেত্রী। কলকাতার কালীঘাটে মমতার ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে খবর, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকেও ২৭ মে কলকাতার রেড রোডে শপথে হাজির থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে একদিনের জন্য দিল্লি যেতে পারেন তৃণমূলনেত্রী। মমতার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠানো হতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম-নেতাই এবং ২১ জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন মমতা। গতবারও শপথে রাজভবনে এসব পরিবারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি বৃদ্ধাবাস থেকে শুরু করে থ্যালাসেমিয়া রোগী এবং নারী পাচার প্রতিরোধী নানা সংগঠনের প্রতিনিধিদেরও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ডেকে পাঠাচ্ছেন মমতা।

কেন রেড রোডে খোলা আকাশের নিচে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান- তার ব্যাখ্যায় মমতা ব্যানার্জি বলেন, ১৫ আগস্ট জনগণের স্বাধীনতা দিবস রেড রোডে হয়। আমরা আসার পর বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানও সেখানে করা হয়েছে। রাজভবন কিংবা নেতাজি ইনডোরে করলে তিন-চার হাজার মানুষ অনুষ্ঠান দেখতে পারতেন। বাইরে করলে ২০ হাজার মানুষ অনুষ্ঠান দেখতে পারবেন। তাই জনগণের জন্যই এই অনুষ্ঠান করা। তাদের ধন্যবাদ দেয়া।

২৭ তারিখ মমতার শপথের পর ২৮ মে প্রোটেম স্পিকার শপথ নেবেন। পাঁচবারে বিধায়ক জটু লাহিরিকে প্রোটেম স্পিকার করার জন্য রাজ্যপালের কাছে নাম পাঠানো হয়েছে। ৩০ মে বিধায়করা শপথ নেবেন। পরদিন মঙ্গলবার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হবে। স্পিকার পদে বিমান ব্যানার্জি এবারও থাকছেন বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু ডেপুটি স্পিকার কে হবেন তা এখনও ঠিক হয়নি। মন্ত্রিসভায়ও বিভিন্ন জেলার ভারসাম্য রাখতে চাইছেন মমতা।
এদিনও কালীঘাটে মমতার বাড়িতে ছিল মানুষের ঢল। সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ ফুল-মিষ্টি নিয়ে কালীঘাটে এসেছেন। শুভেচ্ছা জানাতে যান দেশ-বিদেশের বহু প্রতিনিধি। বিভিন্ন বণিকসভার প্রতিনিধিরাও শুভেচ্ছা জানাতে যান সেখানে।এবার প্রথম থেকে দলের সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে যথেষ্ট কঠোর হয়েছেন মমতা। নবনির্বাচিত বিধায়ক তথা দলের পদাধিকারী ও সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, যেমন খুশি বলা, যেমন খুশি চলা তিনি আর বরদাশত করবেন না। মানুষ যে রায় দিয়েছে তা অভূতপূর্ব। এর পরেও যারা জিততে পারেননি, তাদের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে রাজ্যে বিপুল সাফল্যের পর এবার তৃণমূলের নজর দিল্লি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এগোচ্ছে তৃণমূল। লোকসভায় দলের নেতা সুদীপ ব্যানার্জি বলেন, দিল্লির দিকে আমাদের এখন নজর। দু’মাস অন্তর একবার মমতা ব্যানার্জি দিল্লি যাবেন। দিল্লির রাজনীতিতে যোগাযোগ বাড়াবেন। কারণ ২০১৯ সালে তৃণমূল নির্ণায়ক দল হবে।

আরও পড়ুন