বৃহস্পতিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

ঢাকা আসছেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, ‘নজর’ রাখছে ভারত


NEWSWORLDBD.COM - May 24, 2016

China-Bangladeshচলতি মাসের শেষে ঢাকা আসছেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চ্যাং ওয়ানকুয়ান। এই চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকের বেইজিং সফরে যান। এরপর দুই পক্ষই বাংলাদেশ ও চীনের সামরিক বাহিনীর চার দশকের সামরিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকারের কথা জানায়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, “ঢাকা ও বেইজিংয়ের সামরিক সম্পর্ক কতো দূর যাবে, আমরা তা বোঝার চেষ্টা করছি।”

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের মতো চীনও পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খানের পক্ষ নিয়েছিল। অবশ্য পরে জেনারেল জিয়াউর রহমান ও এইচ এম এরশাদের সামরিক সরকারের সময়ে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলে তারা।

বর্তমানে বাংলাদেশে সামরিক সরঞ্জামের সবচেয়ে বড় বিক্রেতা চীন।

স্টকহোমভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের পর থেকে বেইজিং ঢাকার কাছে পাঁচটি মেরিটাইম পেট্রোল ভেসেল, দুটি করভেট, ৪৪টি ট্যাংক, ১৬টি জেট ফাইটার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করেছে।

এছাড়া চীন থেকে মিং ক্লাস সাবমেরিনও কিনছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের শেষভাগে ওই সাবমেরিন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কেবল সমরাস্ত্র আমদানি নয়, বাংলাদেশ ও চীনের সামরিক সম্পর্ক এগিয়েছে প্রশিক্ষণ ও সামরিক যোগাযোগের দিক দিয়েও।

প্রতিবছর ভারতীয় সামরিক বাহিনীর যতজন বাংলাদেশ সফরে আসছেন, মোটামুটি সমান সংখ্যক প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে চীনও।

গতবছর চীনা সামরিক বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফরের সময় একটি চুক্তি হয়, যাতে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয়।

জেনারেল বেলালের চীন সফরের সময় ওয়াং আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সফর, সমরতাত্ত্বিক পর্যায়ে যোগাযোগ এবং প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ নিয়ে দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বেলাল সে সময় বলেন, বাংলাদেশ সামরিক প্রশিক্ষণ ও শান্তিরক্ষার বিষয়ে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

জাতিসংঘ শান্তি মিশনে অংশগ্রহণের দিক দিয়ে বাংলাদেশ, চীন ও ভারত- তিন দেশই শীর্ষ দশে রয়েছে।

অবশ্য ভারতের উদ্বেগের মূল কারণ চীনের ‘সিল্ক রোড ইকোনমিক বেল্ট’  পরিকল্পনায় বাংলাদেশের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার হয়ে সড়ক যোগাযাগ এবং সামদ্রিক ‘সিল্ক রুট’ পরিকল্পনার আওতায় চীনের বন্দর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা- এই দুই পরিকল্পনাতেই বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের চীনা প্রস্তাব নিয়েও ভারতের উদ্বেগ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই প্রস্তাব অনেকটাই ঝুলে গেছে।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির সামরিক বাহিনী এখন নজর রাখছে চীন ও বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সম্পর্কের অগ্রগতির দিকে, বিশেষ করে নৌবাহিনীর বিষয়ে।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের সাবমেরিন বিক্রির পরিকল্পনায় বাংলাদেশে একটি সাবমেরিন ঘাঁটি তৈরির বিষয় থাকতে পারে, যা হয়তো পরে চীনা সাবমেরিনও ব্যবহার করবে; যেমনটি শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরের ক্ষেত্রে হয়েছিল।

ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিন লিখেছে, ভারত ও চীন- দুই পক্ষের কাছ থেকেই সুবিধা পাওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের রয়েছে। সমুদ্র ও স্থলসীমা নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জটিলতার মীমাংসা হয়েছে গত দুই বছরে। এর কারণ হয়তো এই যে, বাংলাদেশ যাতে চীনের দিকে বেশি ঝুঁকে না যায়, তা নিশ্চিত করতে চাইছে ভারত।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: M. Arman Hossain

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.