নীলফামারীর ডোমার ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব হাসান পাপ্পু (২২) হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাহবুবুল আলম জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জেলার ডোমার উপজেলার বোড়াড়ি ইউনিয়নের বাগডোকরা গ্রামের আব্দুল হাকিম মুহুরীর ছেলে কামরুজ্জামান সেবু (২৮), লালমনিরহাট জেলা সদরের নওদাবস গ্রামের আনছার আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৪৩) এবং একই জেলা সদরের ছাটহর নারায়ন গ্রামের মৃত প্রসন্ন কুমার রায়ের ছেলে বুদ্ধদেব রায় বৈদ্য (৪২)। সিরাজুল ইসলা এবং বুদ্ধদেব রায় বৈদ্য পলাতক রয়েছেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই রাতে জেলার ডোমার পৌরসভার চিকনমাটি গ্রামের রেজাউল হক বেলালের ছেলে রাকিব হাসান পাপ্পুকে কৌশলে ডেকে নেয় কামরুজ্জামান সেবু। পাপ্পু তার মোটরসাইকেলে করে বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে গিয়ে আসামিদের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় আসামিরা তাকে ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বুড়ারডোবা নামক স্থানে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরদিন ১৮ জুলাই নিহত পাপ্পুর চাচা মোখদুমুল হক চানু বাদী হয়ে ডোমার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ লালমনিরহাট থেকে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার ও পাপ্পুর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। তিন আসামি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকার পর সিরাজুল ইসলাম ও বুদ্ধদেব রায় বৈদ্য জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপন করেন। প্রধান আসামি কামরুজ্জামান সেবু গ্রেপ্তারের পর থেকেই কারাগারে রয়েছেন।
বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আদালতের অতিরিক্ত পিপি আজিজুল হক প্রামানিক। বলেন, “ঘটনার দুই বছর ১০ মাস আট দিনের মাথায় মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত ওই রায় প্রদান করেন।”
আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পাপ্পুর মা সাফিয়া সুলতানা। তিনি আসামিদের দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানান।
অন্যদিকে, আদালতের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামি পক্ষের আইনজীবী আব্দুল ওয়াহাব চৌধুরী বলেন, “আসামিরা নির্দোষ। স্বপক্ষে প্রমাণাদি আদালতে উপস্থাপন করা হলেও আদালত তা পর্যালোচনা না করে সন্দেহের ভিত্তিতে এ রায় প্রদান করেছেন। ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ায় আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।”
উল্লেখ্য, নিহত ছাত্রদল নেতা পাপ্পু ডোমার ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ডোমার পৌরসভার মেয়র মনছুরুল ইসলাম দানুর ছোট ভাইয়ের ছেলে। মামলার প্রধান আসামি কামরুজ্জামান সেবু ছিলেন পৌরসভার মেয়রের গাড়িচালকের পদ থেকে চাকরিচ্যুত।


