সাত জেলার ৯ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সাতটিতে জয়লাভ করেছে। বাকি দুটিতে জিতেছে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা, যাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন।
বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট চলে। সন্ধ্যার পর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা ভোটের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন।
নির্বাচন চলাকালে বিভিন্ন স্থানে অনিয়মের অভিযোগ এনে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন বেশ কয়েকজন প্রার্থী। বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল বিকেলে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে অনিয়মের অভিযোগ এনে এসব পৌরসভায় পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি এসব ‘অনিয়মের’ ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে দলটি।
বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো ফলাফল অনুযায়ী দেখা যায়-
নরসিংদীর রায়পুরা পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জামাল মোল্লা জয়ী হয়েছন। মোবাইল প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন আট হাজার ৯৫১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আব্দুল কুদ্দুস পেয়েছেন চার হাজার ৫৫০ ভোট। নির্বাচনে তৃতীয় হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আফজাল হোসেন। তিনি পেয়েছেন তিন হাজার ৪৪৩ ভোট।
জেলার ঘোড়াশাল পৌরসভায় জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. শরীফুল হক শরীফ। বর্তমান মেয়র মো. শরীফুল হক শরীফ পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৭৯২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির জাহাঙ্গীর হোসেন পেয়েছেন এক হাজার ৯৯ ভোট পেয়েছেন।
যদিও গত ১৬ মে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোড়াশাল পৌরসভা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান বিএনপির প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন। নানা অনিয়ম ও নিজেদের এজেন্টদের ভোট দানের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে আজ নির্বাচন বর্জন করেন দুই সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদপ্রার্থী শাহনাজ পারভীন ও কলি বেগম।
খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহান (কাজী রিপন)। বর্তমান মেয়র শাহজাহান পেয়েছেন পাঁচ হাজার ২৩৪ ভোট। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বিশ্ব প্রদীপ কুমার কার্বারী (বিশ্ব ত্রিপুরা) পেয়েছেন চার হাজার ২৯৩ ভোট। আর বিএনপির প্রাথী হাফেজ আহম্মদ ভূঁইয়া পেয়েছেন দুই হাজার ৬২০ ভোট।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু তাহের বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৩৩ হাজার ৩৫০ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির রেজাউল করিম লিটন পেয়েছেন এক হাজার ৮৬৮ ভোট। নির্বাচন চলাকালে আজ বিকাল তিনটায় নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে অনিয়মের অভিযোগ এনে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন বিএনপি প্রার্থী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মেয়র পদে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এমরান উদ্দিন জুয়েল। তিনি পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪৭৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ইলিয়াস খান পেয়েছেন এক হাজার ৩০০ মতো ভোট।
নোয়াখালী পৌরসভায় মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শহীদুল্লাহ খান সোহেল। এখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির হারুন-অর রশিদ।
নোয়াখালীর সেনবাগ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু জাফর টিপু মেয়র পদে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন তিন হাজার ৮৯০ ভোট। টিপুর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) মো. দুলাল (ভিপি দুলাল) পেয়েছেন তিন হাজার ৮৬ ভোট।
ফেনীর ছাগলনাইয়া পৌরসভায় মেয়র পদে বেসরকারিভাবে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ মোস্তফাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি পেয়েছেন ১৭ হাজার ৫৭৪ ভোট। অপরদিকে মোস্তফার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আলমগীর বিএ পেয়েছেন ৭৬৪ ভোট।
কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভায় বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের হাজি মাহমুদ ইসলাম। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারুক বাবুল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বাইরে রয়েছেন।


