জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। যার আসল নাম শারমীন আক্তার নিপা। অনেকটা হুট করেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন আলোচিত এই নায়িকা। পাত্র সিলেটের মাহমুদ পারভেজ অপু। যিনি পেশায় ব্যবসায়ী। তবে অপুর এই ব্যবসায়িক পরিচয়ের বাইরে আরেকটি চমকপ্রদ পরিচয় রয়েছে। অপু বনেদি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান।
জানা গেছে, মাহমুদ পারভেজ অপুর দাদা আবদুল হামিদ ছিলেন সিলেটের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা। সিলেটের রাজনৈতিক মহলে ছিল জোরালো অবস্থান। সিলেটের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের শীর্ষ সারিতেই ছিল আবদুল হামিদের নাম।
তবে সিলেটের গণ্ডি পেরিয়ে আবদুল হামিদ জাতীয় পর্যায়েও নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন আবদুল হামিদ।
আরো জানা গেছে, নায়িকা মাহিয়া মাহির স্বামী পারভেজ মাহমুদ অপুর জমজ ভাই রয়েছে। সেই ভাইয়ের নাম জাবেদ মাহমুদ টিপু। তবে অপুর চেয়ে টিপু এক মিনিটের বড়।
পারভেজ মাহমুদ অপুর বাবা এম এ মান্নান দেশের শীর্ষস্থানীয় একজন কয়লা আমদানিকারক। ৪ ভাইয়ের মধ্যে অপু দ্বিতীয়। সিলেট নগরীর ২৬ নং ওয়ার্ডের কদমতলি এলাকার স্বর্ণশিখা নামক নিজ বাড়িতে বসবাস করেন অপুরা।
যেভাবে মাহির সাথে অপুর পরিচয়
মাহির সঙ্গে পরিচয় নিয়ে মুখ খোলেন অপু। বলেন, মাহিকে প্রথম দেখি প্রায় বছর তিনেক আগে। সেসময় সে একটি ছবির শুটিংয়ে সিলেট গিয়েছিল। আর তখনই তাকে দেখে ভীষণ ভালো লাগে। তবে সেটা `লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট` ছিল না। এরপর মাহির এক বন্ধুর মাধ্যমে তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তারপর থেকে খুব কম কথা হতো আমাদের মধ্যে। যেমন-হাই/হ্যালো! তবে দিনে দিনে আমাদের মধ্যে একটা ভালো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর থেকেই মাহির সরলতা এবং চঞ্চলতা আমাকে মুগ্ধ করে।
তবে মাহির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হলেও তার অভিনীত সবগুলো ছবি দেখা হয়নি অপুর। অপু বলেন, মাহির অগ্নি-২ ছবিটা দেখেছি এবং সর্বশেষ হুমায়ূন আহমেদ স্যারের উপন্যাস অবলম্বনে কৃষ্ণপক্ষ ছবিটি দেখেছি। অগ্নি-২ ছিল অ্যাকশন ছবি। মাহি ভালো অভিনয় করলেও সত্যি কথা বলতে আমার কাছে পুরো ছবিটা অতটা ভালো লাগেনি। তবে কৃষ্ণপক্ষে মাহির অভিনয় দেখে মনে মনে তার প্রেমে পড়ে যাই!
এরপর একটু একটু করে সেই প্রেম মনের মধ্যে পুষে রাখেন অপু। আর সেই প্রেম রূপ নেয় বিয়েতে। মাহি-অপুর বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয় গেল সপ্তাহে। তবে এটা সীমাবদ্ধ ছিল তাদের পরিবারের মধ্যেই। ঘুণাক্ষরেও বাইরের কেউ জানতে পারেনি তাদের বিয়ের কথা।
অপু যেমনটা বললেন, আমি প্রথমে আমার পরিবারকে জানাই। তারপর আমার পরিবার মাহির মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর দুই পরিবারের অভিভাবকরা আমাদের দুজনের সম্মতি নিয়েই বিয়ের ব্যবস্থা করেন। বিয়ের সব কথাবার্তা চূড়ান্ত হওয়ার পর তাকে আমি ফেসবুকে চ্যাটিং এর মাধ্যমে `আই লাভ ইউ মাহি` লিখে একটা টেক্সট পাঠাই। কিছুক্ষণপর মাহি মৌন সম্মতি জানিয়ে হাসির ইমো পাঠিয়ে আমাকে রিপ্লাই দেয়।


