ধর্ষণের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর নাম তারিকুল ইসলাম। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। এছাড়া শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক তিনি।
তাকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শাতেও বলা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. নূর-ই-ইসলাম।
গত ২২ মে সদ্য এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এক ছাত্রীকে কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় এনে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
ড. নূর-ই-ইসলাম বলেন, ‘একজন ছাত্র কর্তৃক এ ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃংখলা ও আইনের পরিপন্থী। এ কারণে প্রক্টোরিয়াল বিধি ৫(২) ধারা অনুযায়ী ওই ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না সে ব্যাপারেও কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।’
ধর্ষণের শিকার কেরানীগঞ্জের চুনকুঠিয়া গার্লস স্কুল থেকে এ বছর এসএসসি পাস ওই ছাত্রী জানান, দুই মাস যাবত ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালের আইআর-এর চতুর্থ বর্ষের ছাত্র তামীমের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়। রোববার টিএসসি মোড়ে তার দেখা করতে যায় সে। পরে সেখান থেকে তাকে ফুসলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে দৈনিক বাংলা মোড়ের হোয়াং সি নামের একটি রেস্টুরেন্টের পাশের হোটেলের দোতালায় নিয়ে তাকে রাতভর ধর্ষণ করে তামীম। সোমবার সকাল ১১টার দিকে তাকে টিএসসি এলাকায় নামিয়ে দিয়ে সে চম্পট মারে।
অভিযোগকারী ওই মেয়ে জানায়, তাকে ‘ফুসলিয়ে’ দৈনিক বাংলা মোড়ে ‘হুয়াং সি’ চায়নিজ রেস্টুরেন্টের পাশে একটি আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলায় মেয়েটিকে নিয়ে যায়। সেখানে তামিম মেয়েটিকে ‘কোল্ড ড্রিংক’ জাতীয় কিছু খাইয়ে বন্ধুসহ রাতভর ধর্ষণ করে।
সোমবার সকালে রিকশায় করে টিএসসি এলাকায় ফেলে যায়।
টিএসসি এলাকায় প্রায় অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকলে একজন পথচারি মেয়েটির কাছ থেকে পরিবারের ফোন নম্বর নিয়ে তার বাবা আফজাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
খবর পেয়ে আফজাল হোসেন টিএসসি থেকে তার মেয়েকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করেন।
ধর্ষিতার বাবা জানান, তার মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিয়ে ৪.১১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।
আফজাল হোসেনের বাসা কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কদমতলী এলাকায়।


