নানান অনিয়ম আর সংঘাতে প্রাণহানির মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে পঞ্চম দফার ৭১৭টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন। গোলযোগের কারণে ভোট বন্ধ হয়েছে ৫৩টি কেন্দ্রে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলে।
ভোটগ্রহণ শেষের পর ইসির উপ-সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান সাংবাদিকদের জানান, “এ পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি কেন্দ্রে নানা কারণে ভোট বন্ধ করে দেওয়ার তথ্য তাদের হাতে এসেছে। এ সংখ্যা বাড়তে পারে। তবে কোনো এলাকার পুরো ইউপিতে ভোট বন্ধের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।”
পরে সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ৫৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।
সকালে ভোট শুরুর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় ঠাকুরগাঁওয়ে দুজন নির্বাচন কর্মকর্তা প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার এই খবরের পর বিভিন্ন স্থান থেকে গোলযোগের সংবাদ আসতে থাকে।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ছুরিকাঘাতে এক সদস্য প্রার্থী এবং কুমিল্লার তিতাসে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিএনপির বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী নিহত হয়েছেন।
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ থামাতে পুলিশকে গুলি ছুড়তে হয়। এতে তিনজনের মৃত্যুর খবর স্থানীয়রা দিলেও পুলিশ একজনের কথা নিশ্চিত করেছে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গোলমালের মধ্যে পড়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। ব্যাপক সংঘাত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকটি স্থানে।
জাল ভোটের অভিযোগের মধ্যে চট্টগ্রামের চট্টগ্রামের পটিয়ার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবের আহমেদকে কেন্দ্রের বাইরে ব্যালট পেপারসহ আটক করেছে বিজিবি।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে আটক করে বিজিবি। তিনি তার চেয়ারম্যান প্রার্থী ভাইয়ের জন্য প্রভাব খাটাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।
আগের মতোই খোদ নির্বাচন কর্মকর্তাদের অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার উদাহরণ এবারও দেখা গেছে। সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে ব্যালটে সিল মারার জন্য এক সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
নির্বাচন কমিশন আগের চার ধাপের তুলনায় শনিবারের নির্বাচনকে ‘ভালো’ বললেও বিএনপি বলছে, ভোটের নামে চলেছে ‘তামাশা’। আর অনিয়ম দেখেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি ইসি।
ভোটগ্রহণ শেষে সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশনারদের নিয়ে বৈঠকে বসেন।
তার আগে দুপুরে নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ বলেন, ‘তুলনামূলক ভালো’ নির্বাচন হচ্ছে।
যে সব অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে দুপুরে সিইসির সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, “এটা ভোটের নামে খেলা হচ্ছে, তামাশা চলছে। সব জেনে-শুনে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না ইসি।
“তারা জেগে ঘুমাচ্ছে। কেউ যদি জেগে ঘুমিয়ে থাকে, করার কিছু থাকে না। এখন ইসিকে জানানোর চেষ্টাও বৃথা।”
দলীয় প্রতীকে প্রথম ইউপি নির্বাচনে এবার বেশিরভাগ সংঘাতই হয়েছে দল মনোনীত এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে।
ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে গত সাড়ে তিন মাসে সহিংসতায় ৮০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সংঘর্ষ-হামলার ঘটনা ঘটছে প্রায় প্রতিদিনই।
দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহীদের কারণে গোলযোগের প্রবণতাও বেড়েছে স্বীকার করে আবু হাফিজ বলেন, “মানসিকতার পরিবর্তন না হলে গোলযোগ ও অভিযোগের শেষ হবে না।”


