বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

শেখ হাসিনার ফাঁসি দাবিকারী হলেন মমতার মন্ত্রী

Siddikullah-chyবিপুল ভোটে জয়লাভের পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ গ্রহণ করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। মন্ত্রীসভায় স্থান পেয়েছেন ৪২ জন, এবং এদের মধ্যে আছেন জামাত-ই-উলেমা হিন্দের নেতা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ভারতের একজন আলোচিত ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি ঢাকা ও সিলেট সফরে এসেছিলেন। এক সপ্তাহের সফরে বাংলাদেশে এসে তিনি ঢাকা ও সিলেটে বিভিন্ন ইসলামি মাহফিলে যোগদান করেন।

মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে টাইটেল পাস করেন। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার করজগ্রামে তাঁর বাড়ি। তিনি নিজ গ্রামে জামেয়া ইসলামিয়া করজগ্রাম গড়ে তুলেছেন। এই মাদ্রাসায় ছাত্র সংখ্যা প্রায় ছয়শ’। ভারতজুড়ে ৯৭৩টি কওমি মাদ্রাসা নিয়ে দারুল উলুম দেওবন্দভিত্তিক একটি শিক্ষাবোর্ড রয়েছে। তিনি ১৯ বছর ধরে এই শিক্ষাবোর্ডের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামী ও এর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদি সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেছিলেন, আবুল আলা মওদুদির অনেক বক্তব্য ইসলামের মৌলিক আকিদা-বিশ্বাসের পরিপন্থি। এসব বক্তব্য ইসলামের মূলনীতির পুরোপুরি বিরোধী। তাই উলামায়ে কেরাম ঐক্যবদ্ধভাবে আবুল আলা মওদুদিকে গুমরাহ ও ভ্রষ্ট বলে রায় দিয়েছেন। যারা মওদুদির এসব কথা মানবে ও বিশ্বাস করবে, তারাও গুমরাহ হবে।

সিদ্দিকুল্লাহর মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কলকাতার প্রগতিশীল আন্দোলনের কর্মী অরিন্দম মুন্সীর তার অতীত কার্যকলাপের উদাহরণ টেনে তার বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে আন্দোলন করার ইতিহাস তুলে ধরেন।
কলকাতা শহরকে স্তব্ধ করে দেওয়া সে মিছিল থেকে হাসিনাকে ফাঁসি দাও দাবিও জানানো হয়েছিল বলে লিখেন অরিন্দম।

অরিন্দম মুন্সী ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে বাংলাদেশিদের উদ্দেশে লিখেছেন- বাংলাদেশী ভাইলোগ, তোমাদের জন্য সুখবরঃ জামাত-ই- উলেমা হিন্দের সর্বময় কর্তা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী, যিনি লক্ষাধিক মুমিনের মিছিল থেকে রাজাকারের মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা এবং সাথে শাহবাগী নাস্তিকদের চরম শাস্তির দাবী তুলে কলকাতা শহরকে ক্ষুব্ধ করে দিয়েছিলেন, তিনি আজ পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তৃণমূল সরকারে। সেই দিনের মিছিল থেকে স্লোগান উঠেছিল “নাস্তিকদের ফাঁসী দাও, হাসিনাকে ফাঁসী দাও। যে মিছিলকারী দের আক্রমণে ১৩ টি পুলিশের গাড়ী আক্রান্ত হয়েছিল।”

উল্লেখ্য, শুক্রবার ২৭ মে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও তার সরকারের ৪২ মন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। এ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তার প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে যান শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

আরও পড়ুন