নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার সাক্ষ্য গ্রহণে প্রত্যক্ষদর্শী কলেজছাত্রী রাবেয়া আক্তার আঁখি ও তার বাবা শহিদুল ইসলাম। সাত খুনের অপহরণের সময়ে রাবেয়া আক্তার আঁখি নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে তার বাবা শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মটরসাইকেলে করে বন্দরের বাড়ি যাচ্ছিলেন। তখন তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে খান সাহেব ওসমান আলী জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে কয়েকজন ব্যক্তিকে (খুব সম্ভবত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য) দেখতে পান। তখন তারা মটরসাইকেল থামিয়ে তাদের জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দেয়, ‘যা বেটা ফুট, যা।’ পরে বাবা ও মেয়ে চলে যায়।’
সোমবার সকালে আদালতকে এসব তথ্য জানিয়েছে তারা।
এছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জের সোনা মিয়া মার্কেটের রশি বিক্রেতা মতিন হওলাদার, প্লাস্টিকের বস্তা বিক্রেতা শাহজাহান আদালতকে জানান, সাত খুনের পর র্যাব সদস্যরা আদমজী সোনা মিয়া মার্কেটের মতিন হাওলাদারের অনিক এন্টারপ্রাইজ দোকান থেকে ৫ কেজি সুতা ও শাহজাহানের দোকান থেকে প্লাস্টিকের বস্তা কেনে। সাতজনকে হত্যার পর প্লাস্টিকের বস্তায় ইট ভরে শরীরে বেঁধে শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেয়া হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে গ্রেপ্তারকৃত নূর হোসেনসহ ২৩ আসামির উপস্থিতিতে ওই ৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। শুনানি শেষে আগামী ৬ জুন পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছে আদালত।
এছাড়াও সাত খুনের পর ওই সময়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যাবিদ হোসেনের আদালতে একজন আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এ নিয়ে ৬২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সোমবার সাত খুনের ঘটনায় ৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। এর মধ্যে প্রাক্তন নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যাবিদ হোসেন, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলেজ ছাত্রী রাবেয়া আক্তার আঁখি ও তার বাবা শহিদুল ইসলাম, সিদ্ধিরগঞ্জের সোনা মিয়া মার্কেটের রশি বিক্রেতা মতিন হাওলাদার, প্লাস্টিকের বস্তা বিক্রেতা শাহজাহান ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোয়াজ্জেন হোসেন রয়েছেন।
সূত্র জানায়, সাত খুনের ঘটনায় দুটি মামলা হয়। একটি মামলার বাদী বিজয় কুমার পাল হলেন, নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের মেয়ে জামাতা ও অপর বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি হলেন নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী। দুটি মামলাতেই অভিন্ন সাক্ষী হলো ১২৭ জন করে। এ কারণে উভয় মামলার সাক্ষীদের একই সঙ্গে দুই মামলায় জেরা করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তদন্ত শেষে প্রায় এক বছর পর গত ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাত খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় নূর হোসেন ও র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। আর চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে এখনো ১২ জন পলাতক রয়েছে।


