“দুর্নীতি দমন কমিশনের ভেতরে দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে। হাজার হাজার মামলা ডিপ ফ্রিজে পড়ে আছে। মামলাগুলির তদন্ত ৩০ দিনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও একটি মামলার তদন্তও নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হয়নি। কেন এসব নথি পড়ে রয়েছে তার ৮৭৩টি ব্যাখ্যা দিতে দুদকের কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।”
কথাগুলো বলেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। মঙ্গলবার সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে রাজশাহী দুর্নীতি দমন কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ডিপ ফ্রিজে থাকা ও দায়মুক্তি দেওয়া মামলাগুলি তদন্ত করে পুনরুজ্জীবিত করা হবে বলে জানান দুদকপ্রধান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের ভেতরে দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে। একটি সংস্থার যদি এই অবস্থা চলে, তাহলে কীভাবে এই সংস্থা কাজ করবে? সংস্থার ওপরে কীভাবে মানুষ বিশ্বাস রাখবে? মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। বিশ্বাস সমাজের চালিকা শক্তি। দুদকের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে হবে। তাই আমরা ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছি।
ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ শুরু হয়েছে। কমিশন ঘর থেকেই সংশোধন শুরু করেছে। তবে অপরাধীদের এই ভেবে লাভ নেই, আমরা দমন বাদ দিয়ে প্রতিরোধ করছি। আমরা দমন বাদ দিয়ে প্রতিরোধ করি না। ঘুণে ধরা সমাজ এভাবে চলতে পারে না। আমরা কাউকে ছাড় দিতে রাজি নই। কথা বলার সময় নেই। এখন সময় এসেছে কিছু করার। সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে আমরা দুর্নীতি রুখবো।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দীন।
দুদকের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আবদুল হান্নান, দুদক মহাপরিচালক (প্রতিরোধ ও গবেষণা) ড. মো. শামসুল আরেফিন ও পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেন।
অনুষ্ঠান শেষে রাজশাহী বিভাগের শ্রেষ্ঠ দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের মাঝে ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়। এরপর দুর্নীতি বিরোধী একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
জেলা পর্যায়ে এ বছর রাজশাহী বিভাগে শ্রেষ্ঠ দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি নির্বাচিত হয়েছে বগুড়া জেলা কমিটি। উপজেলা পর্যায়ে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি প্রথম, বগুড়ার শেরপুর দ্বিতীয় এবং পাবনার বেড়া তৃতীয় নির্বাচিত হয়েছে।
রংপুর বিভাগে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছে পঞ্চগড় জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি। এই বিভাগে উপজেলা পর্যায়ে রংপুরের গঙ্গাচড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি প্রথম, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ দ্বিতীয় এবং গাইবন্ধার সাঘাঁটা তৃতীয় নির্বাচিত হয়েছে।


