পুলিশের নির্দেশনায় নির্মিত ‘ঢাকা এ্যাটাক’ সিনেমার নায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে শাহরিয়ার শাওনের বিয়ে হয়েছিল কিনা তা গুরুত্ব পাচ্ছে না পুলিশের তদন্তে। বরং মাহির অনুমতি না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেন তার ছবি প্রকাশ করা হলো সেটাই তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজন্য শাওনকে ফের সাতদিনের রিমান্ড চাইলেও আদালত আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স-ন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটি) সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধের এক কর্মকর্তা এই তথ্য জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন,‘মাহি নিজেই এই ছবি প্রকাশের বিষয়ে মামলা করেছেন। সাইবার অপরাধ আইনে মামলা হয়েছে। এখানে বিষয়টা হচ্ছে ছবি। মাহি তার অভিযোগে জানিয়েছেন,তার অনুমতি নিয়ে ছবি প্রকাশ করা হয়নি।’
শাওন দাবি করেছেন মাহি তার স্ত্রী ছিলেন, এরকম কোনও ডকুমেন্ট তিনি পুলিশকে দেখিয়েছেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা আমাদের তদন্তের বিষয় না। একজন নারী তার ছবি প্রকাশ নিয়ে অভিযোগ করেছেন, আমরা ছবির বিষয়েই তদন্ত করে দেখছি।’
স্ত্রীর ছবি স্বামী প্রকাশ করতে পারেন কি-না? এর জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘অবশ্যই পারবেন। তবে আবার মামলাও করতে পারবেন।’
আপনারা কোনও আলামত সংগ্রহ করেছেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা শাওনের ল্যাপটপ, মোবাইল, কম্পিউটার জব্দ করেছি। ছবিগুলো আমরা পেয়েছি। সেগুলো পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ল্যাবে পাঠানো হবে।’
ছবি প্রকাশের উদ্দেশ্য নিয়ে শাওন পুলিশকে কিছু জানিয়েছেন কিনা, জানতে চাইলে সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সেটাই জানার চেষ্টা করছি। এই ছবিগুলো তার আর কোনও বন্ধুর কাছে আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছি।’
শাওন নিজেই তার ফেসবুক আইডিতে চিত্রনায়িকা মাহির সঙ্গে কিছু ছবি প্রকাশ করেন। প্রকাশের পর থেকে আলোচনার ঝড় ওঠে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে ব্যবসায়ী পারভেজ মাহমুদ অপু বিয়ের পরদিন থেকেই কয়েকটি গণমাধ্যমে মাহির একাধিক বিয়ে সংক্রান্ত ছবি প্রকাশ হতে থাকে। সেখানে ছবি প্রকাশের পাশাপাশি দাবি করা হয় এর আগেও একাধিকবার মাহির বিয়ে হয়েছে। এরপর ২৮ মে মাহি বাদি হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় সাইবার এ্যাক্টে একটি মামলা দায়ের করেন। পরদিন দক্ষিণ বাড্ডার ক/১৩ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শাওনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই দিনই সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর হলে রোববার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে ডিবি।
মঙ্গলবার শাওনের দু’দিনের রিমান্ড শেষে ফের সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করে সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধের উপপরিদর্শক (এসআই) সোহরাব মিয়া। মহানগর মুখ্য হাকিম মাজাহারুল ইসলাম পুলিশের রিমান্ড আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মহানগর মুখ্য হাকিমের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উজির আলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে একই ক্লাসের শিক্ষার্থী ছিলেন শাওন ও মাহি। শাওন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। তার বাবা নজরুল ইসলাম একজন ব্যবসায়ী।
গত ২৪ মে ব্যবসায়ী অপুকে বিয়ে করেন মাহিয়া মাহি। বিয়ের খবর প্রকাশ হয়ে গেলে ২৫ মে গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তিনি। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ২৭ মে বিভিন্ন অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শাওনের আপলোড করা ছবি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়।
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স-ন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার (এডিসি) সানি সানোয়ারের কাহিনী রচনায় ‘ঢাকা এ্যাটাক’ নামে একটি সিনেমায় প্রধান নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেন মাহি। এই সিনেমায় ডিএমপির কয়েকজন কর্মকর্তাও কাজ করেছেন।


