বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

ভারতজয়ী বীর ফিরলেন দেশে

The-Fizz-Mithunbg20160531000513এ যেন শুধু আইপিএল জয় করে ফেরা নয়, বাংলাদেশকেই জিতিয়ে ফেরা। তাই তো মুস্তাফিজুর রহমানকে বরণ করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজির দেশের পুরো মিডিয়া। ভিআইপি লাউঞ্জ দিয়ে বের হয়ে সংবাদকর্মীদের হুড়াহুড়িতে বিশ্বের তাবড়তাবড় ব্যাটসম্যানদের ঘুম হারাম করে দেওয়া মুস্তাফিজ যেন কিছুটা ভড়কেই গেলেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিচিতরূপে ফিরলেন তিনি। স্বভাবসুলভ হাসিতে বলেন, ‘ভাই, সকালবেলা বের হয়েছি। খুবই ক্লান্ত।’ তাই বলে একটুও বিরক্তি নেই তার মাঝে। হাসিমুখে সবার ছবি তোলার আবদার মেটালেন।

সোমবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ১০টায় কলকাতা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন ‘দ্য ফিজ’। বেঙ্গালুরুর চেন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ‘মহাকাব্য রচনা’ করে কলকাতায় আসেন মুস্তাফিজ। সেখান থেকেই দেশের উদ্দেশে উড়াল দেন ক্রিকেটের এই ‘দুরন্ত বালক’। বিমানবন্দরে রাত পৌনে ১১টা পর্যন্তও আনুষ্ঠানিকতা সারেন মুস্তাফিজ। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

মুস্তাফিজকে বরণ করে নিতে বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী। সেখানে গোলাপের তৈরি একটি রাজমুকুট পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় তাকে। এরপর নেত্রকোনার তৈরি ঐতিহ্যবাহী বালিশ মিষ্টি দিয়ে মুস্তাফিজকে মিষ্টিমুখ করান তিনি। সেখানে আরিফ খান জানান, বিশ্ব কাঁপানোর এ পেস বোলারকে জাতীয় বীরের মর্যাদায় ভূষিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পক্ষ থেকেই মুস্তাফিজকে বরণ করতে এসেছেন তিনি। শিগগিরই সরকারের পক্ষ থেকে তার জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। তবে এত বড় খেতাব পেয়েও মুস্তাফিজ কিন্তু ভীষণ বিনয়ী। অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ছোট মানুষ। এখনও অনেক কিছু শিখতে হবে।’

তাকে বরণ করতে পরিবারের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন তার দুই মামা শরীফুল ইসলাম এবং মনিরুল ইসলাম। রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ছোট মামা মনিরুলের বাসায় থাকবেন। সেখান থেকে আজ সকালে যাবেন বিসিবিতে। এরপর বাড়ির পথে দেবেন ছুট।

Fizz-1920160531012725আইপিএল জেতার অনুভূতি জানতে চাইলে স্বল্প কথায় তার উত্তর, ‘যেভাবে চেয়েছিলাম শুরুটা সেভাবেই হয়েছে। আর শেষটাও ভালো হয়েছে। তাই ভালো লাগছে।’ সেখানে দলের প্রায় সব ক্রিকেটারকে বাংলা শিখিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে আইপিএল শিরোপা জেতা মুস্তাফিজুর রহমান দেশে ফিরেছেন গতকাল। রাতে সাড়ে ১০টায় ঢাকায় পেঁৗছেছেন দেড় মাসের আইপিএল-যাত্রায় ক্রিকেটবিশ্বকে মুগ্ধ করে রাখা বাংলাদেশের কাটারমাস্টার।

১৬ ম্যাচে ১৭ উইকেট- আপাত ‘সাদামাটা’ এই পরিসংখ্যানে মুস্তাফিজকে বোঝা যাবে না। তার দল সানরাইজার্স আইপিএলে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, এমন তথ্যেও পাওয়া যাবে না মুস্তাফিজের কীর্তি। কিন্তু যখন সামনে ভাসবে টুকরো টুকরো কিছু দৃশ্য, যার মধ্যে আছে মুস্তাফিজের জন্য টম মুডি-ডেভিড ওয়ার্নারদের বাংলা শেখার চেষ্টা, ভিভিএস লক্ষ্মণের মতো কিংবদন্তিদের টুইটারে বাংলায় অনুবাদ করা টুইট, দিনের পর দিন ধারাভাষ্যকক্ষে সুনীল গাভাস্কার-সঞ্জয় মাঞ্জরেকার-রমিজ রাজা-ম্যাথু হেডেনদের বিস্মিত স্বরের কথামালা, ভারতের সংবাদমাধ্যমে ‘ফিজ’ নিয়ে ছবি-সংবাদের মাতামাতি, ফাইনাল শেষে পুরো সানরাইজার্স দলের বৃত্ত-নাচোৎসবের মধ্যমণি হয়ে থাকা- তখন আসলে একজন মুস্তাফিজই জেতেন না, সঙ্গে জেতে তার জন্মভূমি, জেতে তার মুখের ভাষা। আইপিএল খেলে ভারত থেকে ফেরা মুস্তাফিজ তাই বাংলাদেশকে জিতিয়েই ফিরেছেন, বাংলা ভাষাকেই জিতিয়ে এসেছেন।

আইপিএলের নবম আসরে দলের শিরোপার সঙ্গে ব্যক্তিগত পুরস্কারও হাতে তুলেছেন মুস্তাফিজ। নয় বছরের আইপিএলে প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি হিসেবে জিতেছেন সেরা নবাগত খেলোয়াড়ের পুরস্কার। আর সেটা এমনই সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে যে, প্লে-অফে সানরাইজার্সের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া গুজরাট লায়ন্সের টুইটার অ্যাকাউন্টে বলা হয়েছে, ‘সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ তারকার পুরস্কার পেয়েছে মুস্তাফিজুর রহমান। আমরা এতে বিন্দুমাত্রও বিস্মিত নই।’

আরও পড়ুন