প্রায় ১৯ বছর আগে ছাত্রলীগ নেতা বিমল চন্দ্র হত্যা মামলায় সাত জনকে যাবজ্জীবন ও একজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ফেনীর একটি আদালত। বুধবার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নিলুফার সুলতানা এই রায় দেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নোমান ওরফে আবদুল নোমান, মোশারফ হোসেন প্রকাশ জসিম, খোরশেদ আলম ওরফে খুরশিদ, আবদুল মোতালেব ওরফে সবুজ, জসিম উদ্দিন (বলি), জহীর ও সবুজ।
এদের মধ্যে নোমান, জসিম উদ্দিন, আবদুল মোতালেব, সবুজ, জহীরকে অন্য একটি ধারায় সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা একসঙ্গে দুটি সাজা ভোগ করবে।
যাবজ্জীবন প্রাপ্তদের দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর সাত বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয়মাস কারাভোগ করতে হবে।
সাত বছর দণ্ডপ্রাপ্ত হলেন আবদুর রহিম।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা এবং সবাই পলাতক রয়েছেন বলে জানান এপিপি দ্বিজেন্দ্র কুমার কংশ বনিক।
এছাড়া মামলা চলার সময় দুই আসামির মৃত্যু এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আরও আট জনকে খালাস দিয়েছে আদালত।
মামলার নথির বরাত দিয়ে এপিপি জানান, ফুলগাজী উপজেলার জিএমহাট ইউনিয়নে শ্রী চন্দ্রপুর গ্রামের নিকুঞ্জু বিহারী রায়ের ছেলে ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি বিমল চন্দ্র রায়কে ১৯৯৭ সালের ২৭ অক্টোবর ছাগলনাইয়ার রেজুমিয়া ব্রিজ এলাকা থেকে যাত্রীবাহী টেম্পু করে অপহরণ করে আসামিরা। পরে তাকে জিএমহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে গিয়ে তার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে ও পিটিয়ে হত্যা করে।
ঘটনার দুই দিন পর ২৯ অক্টোবর নিহতের ভাই পরিমল রায় বাদী হয়ে ৩৬ জনকে আসামি করে ফুলগাজী থানায় মামলা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন বলে জানান এপিপি।


