জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদসহ যেকোন ধরনের অরাজকতা রোধ করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনগণের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মানুষ ন্যায়বিচার পাচ্ছে বলেও সংসদকে জানান সরকারপ্রধান।
“সব ধরনের জঙ্গিবাদ, নাশকতা ও সহিংসতার সাথে জড়িত ও হুকুমদাতাদের আইনের আওতায় আনতে ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সকল বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
দশম জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বুধবার বিকেলে লক্ষীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমানের টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ঈদুল ফিতরের নির্বিঘ্ন বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করা হবে। এরই মধ্যে ৩২টি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এগুলো বাস্তবায়ন করে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের যানজট ও ভোগান্তিমুক্ত যাত্রা নিশ্চিত করা হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, যানজটমুক্ত করতে পুলিশের পক্ষে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ঈদে নির্বিঘ্নে বাড়ি যাওয়া ও ফিরে আসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৩২টি প্রস্তাবনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যানজটপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে একমুখী যান চলাচল ব্যবস্থা অমান্যকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা, মডেল আউট ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান, সুষ্ঠু ট্রাফিক নিশ্চিত করতে মোবাইল ও মোটরসাইকেল মোবাইলটিম পরিচালনা, বিকল ও দুর্ঘটনাকবলিত যান রাস্তার পাশে রাখার আলাদা ব্যবস্থা করা, রাস্তায় বাজার বসতে না দেওয়া এবং ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা।
তিনি বলেন, বিআরটিএ ও ডিএমপি এবং মালিক ও শ্রমিক সমিতির মাধ্যমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, সঠিক সময়ে গাড়ি ঢাকায় প্রবেশ ও বাহির হওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকার সকল ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত, সংস্কার ও রক্ষাবেক্ষণ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সকল সড়ক আগামী ২০ জুনের মধ্যে মেরামতের নির্দেশনা দেওয়া হবে। একই সাথে নিজ নিজ এলাকার সড়কে যানজটমুক্ত চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হবে। ২০ জুনের পরে সকল সিটি কর্পোরেশন এবং ওয়াসাকে মেরামত ও সংস্কার কাজ বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হবে। এছাড়া ঈদের আগে-পরে মোট ১০ দিন সিএনজি স্টেশনগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হবে। নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ঈদের আগের ৭দিন ও পরের ৩দিন মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হবে।
তিনি বলেন, ঈদুলফিতরে টার্মিনাল ও সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি চুরি, ডাকাতি, পকেটমার, মলমপার্টি ও অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্যরোধে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
তিনি বলেন, লক্কর-ঝক্কড় গাড়ি যাতে মহাসড়কে দূরপাল্লায় চলাচল করতে না পারে তা নিশ্চিত করা হবে। ফেরি পারাপার নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক যান্ত্রিক ত্রুটিমুক্ত ফেরি চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি অতিরিক্ত ফেরি রাখা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদে চলাচলের সুবিধার্থে বিআরটিসি রিজার্ভ ও সিটি সার্ভিসে প্রয়োজন হবে না এমন গাড়ি দূরপাল্লায় যাত্রী পরিবহন করবে। ঈদের আগে ও পরে মোট ৭ দিন ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে। ঈদে সড়ক, রেল ও নৌপথের আকস্মিক দুর্ঘটনা মোকাবেলার জন্য পূর্ব প্রস্তুতি রাখা হবে। উদ্ধার ও চিকিৎসা সামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি মজুদ রাখা হবে। বড় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি এড়াতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে।
বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম ওমরের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভেজাল প্রতিরোধে শিল্প মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ফলমূল ও মাছের ফরমালিন প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া আলাদা বেশ কয়েকটি কমিটির মাধ্যমে এসব আইন প্রয়োগ তদারকি করা হচ্ছে।


