ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে পছন্দ মতো প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও এজেন্ট নিয়োগ না দেয়ায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বাঁশখালীর এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ও তার অনুসারীরা।
বুধবার ১ জুন বেলা ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাচন অফিসে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ঢাকায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাতেন।
বাঁশখালীর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “বুধবার বেলা ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে সাংসদ ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে মারধর করেন।
জাহিদুল ইসলাম জানান, “৪ নম্বর বাহারছড়া ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যানপ্রার্থী তাজুল ইসলাম ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা (প্রিজাইডিং অফিসার) নিয়োগের জন্য তাকে ‘একটি তালিকা’ দিয়েছিলেন। আমি ওই তালিকা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারিনি। সকালে এমপি আমাকে ইউএনও কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে তালিকা অনুযায়ী নিয়োগ না দেওয়ার কারণ জানতে চান। এক পর্যায়ে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন।”
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, “সাংসদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন তখন তাকে মারধর করেন। তাদের মধ্যে ওলামা লীগ নেতা মাওলানা আক্তারকে আমি চিনতে পেরেছি।”
ওই ঘটনার সময় ইউএনও তার কার্যালয়ে ছিলেন না। তবে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তাজুল ইসলাম সেখানে ছিলেন বলে জানান জাহিদুল ইসলাম।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম আরও জানান, তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ঘটনাটি বাঁশখালী থানার ওসি আলমগীর হোসেন ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল বাতেনকে জানিয়েছেন।
বুধবার বিকালে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এভাবে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বাঁশখালীর উপজেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা জাহিদুল বলেন, বেলা ১১টার পর ইউএনও কার্যালয়ে তাকে ডেকে পাঠান সংসদ সদস্য। বাঁশখালী ইউএনও কার্যালয়ের পাশের ভবনের নিচতলায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়। সাংসদের ডাক পেয়ে ইউএনও অফিসে যান জাহিদুল ইসলাম।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি ইউএনও সাহেবের কক্ষে প্রবেশ করে দেখি সেখানে এমপি ছাড়া কেউ নেই। তিনি শুরুতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় একটি গালি দিয়ে বলেন, কথা শুনছ না কেন? বলেই তিনি চড় মারতে শুরু করেন।”
জাহিদুল ইসলাম বলেন, “গালি দেওয়ার পর আমি চিৎকার করে বলতে থাকি- আপনি আমাকে গালি দিতে পারেন না। এরপরই বাইরে থেকে দরজা খুলে চার-পাঁচজন ওই কক্ষে ঢুকে পড়ে। তারা সবাই মিলে আমাকে চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এসময় দরজার বাইরে আরও সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছিল।”
জাহিদুল বলেন, “আমাকে মারা হচ্ছে টের পেয়ে ইউএনও অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বাইরের লোকজন ভবনের সামনে ভিড় করে। এক পর্যায়ে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা আমাকে ছেড়ে দেয়।”
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাতেন বলেন, ‘বাঁশখালীর এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ও তার অনুসারীরা সকাল থেকে ইউপি নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে নিজেদের পছন্দের প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও এজেন্ট নিয়োগে চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম তাদের সে অন্যায় আবদার মেনে না নেয়ায় এমপি মোস্তাফিজুর রহমান নিজে ও তার অনুসারীরা তাকে মারধর করে।’
আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বাতেন বলেন, “উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। কমিশনই ব্যবস্থা নেবে।
নির্বাচন কর্মকর্তাকে মারধরের ব্যাপারে সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেন, “সেখানে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। যা বলা হচ্ছে ওসব মিথ্যা কথা।”
এ বিষয়ে কথা বলতে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তাজুলকে ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ষষ্ঠ ধাপে আগামী ৪ জুন চট্টগ্রামের ছয়টি উপজেলায় ৫৫টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বাহারছড়া ইউনিয়নে তাজুল ছাড়াও বিএনপি মনোনীত একজন এবং আওয়ামী লীগের দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।


