বিরল রোগের সরকারি খরচে চিকিৎসার পর বাড়ি ও চাষাবাদের জন্য জমি কিনতে এক চিকিৎসকের কাছ থেকে টাকাও পেলেন ‘বৃক্ষমানব’ আবুল বাজানদার।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন বাজানদারের হাতে মঙ্গলবার ছয় লাখ টাকার চেক তুলে দেন চর্ম রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক এম ইউ কবীর চৌধুরী।
রাজধানীর শমরিতা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ কবির চৌধুরী বিরল রোগে আক্রান্ত বাজানদারের চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য।
এই পর্যন্ত তার পাঁচটি অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং খ্যাতনামা চিকিৎসক কবীর চৌধুরী প্রতিটিতে প্রধান ভূমিকা পালন করেন বলে বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন।
যে অর্থ পেয়েছেন, তা দিয়ে খুলনার পাইকগাছায় প্রায় তিন কাঠা জমি কেনা যাবে বলে জানান ডা. সামন্ত লাল সেন।
পাইকগাছার বাসিন্দা আবুল বাজানদারের কোনো বাড়ি ও ফসলি জমি নেই। অন্যের বাড়িতে থাকে তার পরিবার।
“তিন কাঠার জমির ইতোমধ্যে বায়না করা হয়েছে,” বলেন সামন্ত লাল সেন।
চেক তুলে দেওয়ার সময় আবুলের সঙ্গে তার বাবা মানিক বাজানদারও ছিলেন।
আবুলের চিকিৎসায় আর কতদিন লাগবে- জানতে চাইলে ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, অন্তত আরও ছয় মাস।
আবুলের দুই হাতে, পায়ে প্রায় ১০ কেজি ওজনের আঁচিল গজিয়েছিল। তা দেখতে গাছের শাখা-প্রশাখার মতো হওয়ায় তিনি বৃক্ষমানব বলে পরিচিতি পান।
চিকিৎসকের ভাষায়, আবুলের রোগের নাম এপিডার্মোডিসপ্লাসিয়া ভেরুসিফারমিস।
চিকিৎসার জন্য গত ৩০ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হন আবুল। এরপ তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।


