বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

গ্রাহকদের হয়রানি ‘ডোজ’ ইন্টারনেটের

doze_logo_red_bgশুরুতে ঢাকঢোল পিটিয়ে উচ্চমূল্যে ভালো ইন্টারনেট-সেবা নিয়ে বাজারে এসেছিল ‘ডোজ’ ইন্টারনেট। বাহারি বিজ্ঞাপনে মুগ্ধ হয়ে অনেকে গ্রাহকও হয়েছেন। কিন্তু বাজারে আসার কয়েক মাসের ব্যবধানেই সেবার মান এসে ঠেকেছে শূন্যের কোঠায়। ডোজ ইন্টারনেটের সেবার মান নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন গ্রাহক। ভুক্তভোগীদের একজন মিডিয়াকর্মী। থাকেন রাজধানীর নর্দ্দা এলাকায়। মিডিয়ায় মূলত ইন্টারনেট-ভিত্তিক জরুরি কাজের সঙ্গে যুক্ত। পেশাগত প্রয়োজনেই বাসায় উচ্চ ব্যান্ডউইথের ইন্টারনেট সংযোগ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার এই জরুরি প্রয়োজনের থোড়াই কেয়ার করে ডোজ কর্তৃপক্ষ।

তিনি সম্প্রতি বাসা পরিবর্তন করে একই বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলা থেকে চতুর্থ তলায় গিয়েছেন। নিয়ম অনুসারে, ২৮ মে তারিখে মেইল করে জানিয়েছেন তার সংযোগটি পরিবর্তন করতে হবে। পরিবর্তন বাবদ ফি-ও অগ্রিম পরিশোধ করেছেন। কিন্তু ডোজের লোকের দেখা নেই। জরুরি বলে মিডিয়া হাউস থেকেও একাধিকবার ডোজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু সপ্তাহ প্রায় গড়ালেও দেখা নেই ডোজের লোকের। ফোন দিলেই তারা আজ নয় কাল অজুহাত দিয়েই চলেছেন।

ওই মিডিয়াকর্মী জানান, ডোজের এই খামখেয়ালির এখানেই শেষ নয়। প্রথম দিকে যে স্পিড পেতেন মাসখানেক পরই আর তার দেখা নেই। বিশেষ করে, রাত ১২টার পর নিয়মিতভাবেই আর ইন্টারনেটের দেখা মিলতো না। ইন্টারনেট আনতে ডোজে ফোন দিতে হতো। তারপর আসতো জরুরি ইন্টারনেট। স্পিডের সমস্যা তো আছেই, সঙ্গে আছে নানা বাহানা, প্রতিমাসে অন্তত তিন থেকে চারবার তাদের ইন্টারনেট লাইন কাটা থাকবেই। কোনো মাসে এর ব্যতিক্রম ঘটলে সেটিকে বিশেষ ভাগ্য বলেই মানতে হবে।

গুলশানের এক বাসিন্দা বলেন, ডোজ ইন্টারনেট ব্যবহার করে তিনি রীতিমতো বিরক্ত। মাসে ৮ থেকে ১০ দিন সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যার কারণে বাচ্চাদের হোমওয়ার্ক, বিনোদন সবই বন্ধ।

বনানীর এক বাসিন্দা জানান, তিনিও ডোজ নিয়ে পেরেশানির মধ্যে আছেন। সেবার মান এতটাই কমে গেছে যে ডোজ নিয়ে তিনি হতাশ। মাসুমকে প্রশ্ন করা হলো, এতকিছুর পরও তিনি বিকল্প ইন্টারনেট সংযোগ নিচ্ছেন না কেন? মাসুম উত্তর দেন, এভাবে একটার পর একটা ইন্টারনেট সংযোগ নে্ওয়া কি কোনো সমাধান, ভাই? একটা কোম্পানি থেকেও কেন ভালো সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না?

কাস্টমার কেয়ারে আশরাফ নামে একজনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। উর্ধ্বতন কারো সঙ্গে কথা বলা সম্ভব কি না, জানতে চাইলে তিনি জাফর নামে একজনের নম্বর দেন। তিনি জানান, সমস্যাগুলো তিনি দেখছেন।

আরও পড়ুন