এমপির কাছে কি নালিশ করেছি এ কৈফিয়ত তলব করে চেয়ারম্যান বলেন, ‘ঘাট ডিঙিয়ে ঘাস খেতে গেছ। তোরে দেখে নেব। আগামী পাঁচ বছর আমি তোদের বাপ। আমি যা করবো তাই হবে। তোর জমিতে পুকুর কাটবো। জনগণের জন্য ফিল্টার বসাবো’। ৩০ মে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে চেয়ারম্যান আমাকে রশি দিয়ে পিঠমোড়া দিয়ে বেঁধে লাঠি এনে পেটানোর জন্য গ্রাম চৌকিদারকে নির্দেশ দিয়ে এসব কথা বলেন। গালাগাল করার পর শতাধিক লোকের সামনে চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আজকের মতো তোকে ছেড়ে দিলাম। মজা দেখাবো পরে’। আমি বলেছি, ‘আমার দুটি প্রতিবন্ধী ছেলে। আমাকে প্রাণে মারবেন না। আমাকে ভুল বুঝে আমার ক্ষতি করবেন না’।
জেলার কালিগঞ্জের মৌতলা ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন নামাজগড় গ্রামের আনোয়ার আলী শাহজী। তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের নিষেধের কারণে আমি আমার জমি বেচতে পারছি না। এমনকি পুকুরে মাছও ধরতে পারছি না। এছাড়া পুকুর বন্দোবস্তের টাকাও লেনদেন করতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছি।
শাহজী বলেন, ‘পশ্চিম মৌতলা আর নামাজগড় গ্রামে খাম্বা গেছে, বিদ্যুৎ যায়নি’ একথা জানাতে এমপি এসএম জগলুল হায়দারের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম কয়েক দিন আগে। সঙ্গে ৬০-৬৫ জন গ্রামবাসী। সেখানে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঘের নিয়ে কারা যেন কি বলে গেল। অথচ সেই অভিযোগ তুলে আমার ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী আমার ওপর নির্যাতন শুরু করেছেন। আমি দুই প্রতিবন্ধী শিশু নিয়ে এখন প্রাণভয়ে আছি। এমনকি এই প্রেস কনফারেন্স করতে এসেছি তার লোকজনের নজর এড়িয়ে। এ সংবাদ সম্মেলনের পর আমাকে হত্যার সংবাদ আপনাদের লিখতে হয় কিনা তা-ই ভাবছি।
তবে এ বিষয়ে চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী বলেন, ‘আমার এলাকায় কিছু লোককে ডিলারশিপ দেয়া নিয়ে আমার সঙ্গে এমপির দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট জমি ও পুকুরের বিষয় নিয়ে আমি আগে একবার সালিশ করেছি। তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় আমার কাছে ছফুরন্নেসার ওয়ারেশরা তাদের জমির জন্য ফের আবেদন করেছেন। এ সালিশ যাতে বিতর্কিত হয় সেই লক্ষ্যেই আনোয়ার শাহজী নাটক করছেন’। তিনি যে অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা দাবি করে চেয়ারম্যান বলেন এসব নিয়ে তাকে আমি কিছু কড়া কথা বলেছি এটা সত্য। বলেছি শান্তিপূর্ণভাবে মিটিয়ে নেন। কিন্তু তিনি এ কথাকে পুঁজি করে কারও ইন্ধনে কল্পকথা রচনা করেছেন আমার বিরুদ্ধে’।
সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার শাহজী বলেন, আমি তার ও চেয়ারম্যানের পেটোয়া বাহিনীর ভয়ে ভীত। আমি এখন নিরাপত্তা চাই। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এলাকার ফারুক হোসেন, আরিফুল ইসলাম, তানভির রহমান উজ্জ্বল ও জাহিদ হাসান।


