বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মাদ্রাসাগুলো ‘জাতীয়তাবিরোধী কাজকর্মের আখড়া’: বিজেপি

Dilip-Goshভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত মাদ্রাসা ‘জাতীয়তাবিরোধী কাজকর্মের কেন্দ্র’ বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

দিলীপ ঘোষ রোববার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দ্রুত ‘সিল’ করার দাবি করে বলেছেন, সীমান্তে অবস্থিত মাদ্রাসা সন্ত্রাসবাদ এবং জাতীয়তাবিরোধী কাজকর্মের কেন্দ্র।

দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, ‘আমরা সবাই জানি যে সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত এসব মাদ্রাসায় জাতীয়তাবিরোধী উপাদান তৈরি হয়। এসব মাদ্রাসায় বিদেশ থেকে অর্থ আসে। এসব মাদ্রাসা জাতীয়তা বিরোধী কাজকর্ম, অবৈধ পশু বাণিজ্য ও চোরাচালানের জন্য স্পর্শকাতর করে তোলে।’

দিলীপ ঘোষের দাবি, ‘কয়েক বছর আগে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকার মাদ্রাসাগুলো কট্টরপন্থার প্রজননস্থলের মতো কাজ করছে। কিন্তু দলীয় চাপে তিনি ওই মন্তব্য থেকে পিছু হটেন। কিন্তু আপনারা একজন মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে হালকাভাবে নিতে পারেন না। তিনি যা বলেছেন তা আইবি এবং পুলিশ রিপোর্টের ভিত্তিতে বলেছেন।’

রাজ্যের সাবেক বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ২০০২ সালে কোলকাতার আমেরিকান সেন্টারের সামনে সন্ত্রাসী হানার অব্যবহিত পরে মন্তব্য করেছিলেন, ‘কয়েকটি মাদ্রাসা জঙ্গি কার্যকলাপের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।’ যদিও কয়েকদিনের মধ্যে অবশ্য বুদ্ধবাবু দাবি করেন, এমনটি তিনি বলতে চাননি। তার এ ধরণের মন্তব্যে গোটা রাজ্য জুড়ে মুসলিমরা সে সময় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

২০১৫ সালে আরএসএস থেকে বিজেপিতে আসা দিলীপ ঘোষকে দলের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি করা হয়।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, অসমের নবনির্বাচিত সরকারের মতো পশ্চিমবঙ্গ সরকার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সিল করার কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে না কেন? আমরা সীমান্তে অবস্থিত এসব মাদ্রাসার বিরুদ্ধে লড়ব। সেখানে যেসব জাতীয়তা বিরোধী কাজ হচ্ছে তা রাজনৈতিকভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরব। আমরা বিধানসভায় এই ইস্যুটি তুলে ধরার পাশাপাশি ওইসব মাদ্রাসার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানাব।’

Kolkata-Madrasaএ নিয়ে সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান আজ বলেন, ‘মাদ্রাসা সম্পর্কে কুৎসা এবং বানোয়াট মন্তব্য একাধিকবার মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। বিগত দিনেও এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী (বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য) কিছু সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন সরকারি এজেন্সি এবং তদন্ত সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে ভেবেছিলেন যে মাদ্রাসাগুলোতে দেশদ্রোহিতামূলক শিক্ষা দেয়া হয়। যদিও তা যে একেবারেই মিথ্যা এবং ভুল তা বিগত দিনেও প্রমাণিত হয়েছে। অথচ সেই পুরনো মিথ্যা, সাম্প্রদায়িক এবং উসকানিমূলক দাবি আবারো সামনে নিয়ে এসে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ যেভাবে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতি করতে চাচ্ছেন তা বাংলার জন্য এবং দেশের সম্প্রীতির জন্য বিপজ্জনক।’

মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা তাদেরকে অনুরোধ করে বলব, মাদ্রাসায় দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়া হয়, মাদ্রাসা সুনাগরিক তৈরি করে। ফলে এ ধরণের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে ভ্রান্ত প্রচারণা থেকে তারা বিরত থাকুক। তাহলেই বাংলা তথা দেশের জন্য কল্যাণ হবে।’ #

আরও পড়ুন