আগের হত্যাকাণ্ডগুলোর যাই হোক, চট্টগ্রামে হতভাগ্য মিতু হত্যার তদন্তের বিষয়ে আমি পুরোপুরি আশাবাদি। ইতিমধ্যে লক্ষণও পেয়েছি। যেমন: প্রথমদিন আটক করা ব্যাক্তিদেরকে কোনও মামলা না দিয়েই পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। খবরে দেখলাম, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সন্দেহ করার মত কিছু পায়নি পুলিশ, তাই ছেড়ে দিয়েছে। আমাদের এখানে এটা সচরাচর হয় না।
সাধারণত এমন প্যাটার্নের হত্যার ক্ষেত্রগুলোতে পুলিশ আশেপাশে থাকা দুর্বল দুই একজনকে বা যে হাসপাতালে নিয়ে গেল বা পুলিশকে খবর দিল তাদেরকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে আরো তদন্তের জন্য ১০-১২ দিনের রিমান্ডে নেয়। দোষ থাকুক বা না থাকুক পরে ওই মামলায় আটক দেখিয়ে কারাগারে ফেলে রাখে। পরে বিদেশি রাষ্ট্র ও প্রধানমন্ত্রীর ছেলের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়ে বলে, “৩৭ কুপিয়ে খুনের ৩৪টির আসামি গ্রেফতার আছে। আমরা বিশ্বের রোল মডেল পুলিশ”। আর সেই সঙ্গে লেখার বিষয়ে সচেতন হওয়ার উপর্যুপরি জ্ঞান দেয়া তো আছেই। খুনী ধরা বা চিহ্নিত করা দূরের কথা বরং সপ্তাহখানেক লোকদেখানো তদন্ত করে মারা যাওয়া ব্যাক্তির চরিত্র নিয়ে কিছু গল্প সামনে এনে ফাইল আজীবনের জন্য চলমান হয়ে যায়।
এবার হতভাগা মা মিতু ঘটনায় সব ব্যতিক্রম হবে বলে আশা করছি। কারণ সরকার বাহাদুর এবার নিশ্চয়ই স্বামী এসপি মহোদয়কে ব্লগে লেখালেখি বন্ধ করার মতো জঙ্গি নিয়ন্ত্রণ কর্মকাণ্ড পরিচালনা না করার উপদেশ দিতে পারবেন না। নিশ্চয়ই হত্যাকাণ্ডের শিকার মিতুকে নাস্তিক আখ্যা দিয়ে ফাইল চাপা দিতে পারবে না কেউ।
অবশ্য চেষ্টা যে হবে না, তা বলা যায় না। এখনও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাঙা টেপে আগের গানই বেজে চলেছে। এখনও তিনি ষড়যন্ত্র, বিচ্ছিন্ন ঘটনা, অস্থিতিশীলতা, বিদেশি ও সব স্বাভাবিকের মত কিছু মুখস্থ বুলি নিয়েই আছেন। তিনি হয়ত এখনো ভাবছেন, ভাঙা টেপ বাজিতে যেতে পারার পুরষ্কার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে “সিনিয়র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী” হয়ে যাবেন । কিন্তু এবার আর আগের মত সব কিছু সাজানো খেলা হবে বলে মনে হয় না।
কারণ… দ্য ম্যান বিহাইন্ড দ্য ফ্যাক্ট ইজ বাবুল আকতার । তার চোখ বলে, অফিসার বাবুল ছেড়ে দেয়ার পাত্র নয়।
বাবুল ভাই, জানি যা হারিয়েছেন তা কোনওভাবেই পোষানো সম্ভব নয়। মানি, এ কষ্ট সহজে চাপা দেয়া যায় না। তারপরও অনুরোধ- কোনওভাবেই থামবেন না, এগিয়ে যান। সবাই এখন ব্যস্ত রাজনীতিকদের তেল নারা ও টাকা কামিয়ে বউ বাচ্চাকে আমেরিকায় সেটেল করানোর ধান্দায়। সেখানে আপনি আগের মতোই ব্যতিক্রম খেকে যান; ক্ষতি যা হওয়ার তা তো হয়েছেই!
বাবুল ভাই, মনে রাখবেন এই লড়াই শুধু আপনার স্ত্রী হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে নয়, এ লড়াই রাষ্ট্র বাঁচানোরও। অর্বাচীন রাজনীতিকদের এই যুগে আপনাদের মত গুটিকয়েক পেশাজীবীকেই সবার হয়ে কাজ করে দিতে হবে। না হলে পুলিশ বাহিনীতে আপনার মত কমিটমেন্ট নিয়ে যোগ দেয়া সুদীপ্ত ও সুশান্তের মত জুনিয়ররাও উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। তখন আমাদের দাঁড়ানোর কোনও জায়গা থাকবে না। তাই, বাবুল ভাই প্লিজ.. থামবেন না।
জুলকার নাইন: সাংবাদিক।



