বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

এসপি’র স্ত্রীকে ভোরে বাসা থেকে বের হতে এসএমএস দিয়েছিলো কে?

চট্টগ্রামে-এসপি-বাবুল-আক্তারের-স্ত্রীস্কুলের সময়সূচি পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে ভোরে বাসা থেকে বের হওয়ার জন্য পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের ছেলে মাহিরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের নামে একটি এসএমএস এসেছিলো বাবুল আক্তারের খুন হওয়া স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুর মোবাইল ফোনে। ওই এসএমএস’র বার্তা অনুযায়ী সকালে ছেলেকে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েই খুন হন মিতু। স্কুল কর্তৃপক্ষ এই ধরনের এসএমএস পাঠানোর কথা অস্বীকার করেছে। তাহলে কে এই এসএমএস দিয়েছিলো? মামলার তদন্তকারীদের সামনে এখন এই প্রশ্ন।

নগর গোয়েন্দা পুলিশ এই এসএমএস-এর বিষয়টি ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ জানায়, রোববার খুন হওয়ার আগের দিন মিতুর মোবাইল ফোনে স্কুলের নামে একটি এসএমএস আসে। রোববার স্কুলে বিশেষ অ্যাসেম্বলি আছে উল্লেখ করে শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুলে যেতে বলা হয় এবং শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুল বাস জিইসি মোড়ে অবস্থান করবে বলে জানানো হয়। এই এসএমএস বার্তা পেয়েই রোববার নির্ধারিত সময়ের আগে ভোরে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে বাসার বাইরে এসেছিলেন মিতু। এরপর তিনি ঘাতকের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন।

ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ কর্ণেল আবু নাসের মোহাম্মদ তোহা বলেন, ‘রোববার স্কুলের সময় অপরিবর্তিতই ছিলো। সময় পরিবর্তন হয়েছে- এমন কোন এসএমএস কোন অভিভাবকের কাছে স্কুল কর্তৃপক্ষ পাঠায়নি। শিক্ষার্থী মাহিরের মায়ের কাছে স্কুলের নামে ভুয়া এসএমএস কে বা কারা পাঠিয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা স্কুলের আইটি বিভাগের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি আর পুলিশও বিষয়টা তদন্ত করে দেখবে।’

বিভিন্ন সূত্র জানায়, বাবুল আক্তার পরিবার নিয়ে জিইসি মোড় এলাকায় যে ভবনে থাকেন তার কয়েকটি ফ্ল্যাটে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী রয়েছেন যারা ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে পড়েন। এই শিক্ষার্থীদের সবার অভিভাবকের কাছেই স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তনের এসএমএসটি এসেছিলো বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। কেবল এই একটি ভবনের শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কোন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছে এ ধরনের এসএমএস যায়নি। পুলিশ ধারণা করছে এসএমএস-এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতেই ঘাতকচক্র ভবনের সব শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছে এই এসএমএস পাঠিয়েছে। পুলিশ এই এসএমএস-এর উৎস খুঁজে বের করার জন্য ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।

এমএমএস প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার সাংবাদিকদের জানান, স্কুল সময় পরিবর্তনের একটি এসএমএস মিতুর মোবাইলে এসেছিলো বলে আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনার আগের দিন মিতু এসএমএস প্রসঙ্গে কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু হত্যাকা- সংগঠিত হওয়ার পর থেকে মিতু’র মোবাইল ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা প্রতিটি বিষয় তদন্ত করে দেখছি। মোবাইল ফোনের এসএমএস রহস্যও শিগগিরই উদঘাটিত হবে।

আরও পড়ুন