বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

২০ কোম্পানির ওষুধ উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের

highcourtআগামী সাত দিনের মধ্যে ২০টি ওষুধ কোম্পানির সকল ধরনের উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এই আদেশ আগামী সাত দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে স্বাস্থ্যসচিব, সাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও ওষুধ প্রশাসন পরিদপ্তরের পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচরপতি সৈয়দ মোহম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি এক কে সাহিদুল হকের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। এদিকে ১৪টি অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ সকল কম্পানির ওষুধ উৎপাদন বন্ধের ক্ষেত্রে সাস্থ্যসচিব যে ব্যবস্থা নেবেন তা বাস্তবায়নে পুলিশের আইজি ও র‌্যাবের মহাপরিচালককে আইনি সহায়তা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া এসব কম্পানির লাইসেন্স বাতিলে কেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে না- এই মর্মে রুল জারি করা হয়েছে। মানসম্পন্ন ওষুধ প্রস্তুত না করা কম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত ৫ মে ২০টি ওষুধ কম্পানির উৎপাদন বন্ধ ও লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। এ ছাড়া ১৪টি কম্পানির সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক (নন-পেনিসিলিন, পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপ) ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে।

রিটে বলা হয়, ২০১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ভেজাল এবং নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়। এই কমিটির প্রধান করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুককে। উক্ত তদন্ত কমিটি দেশের ৮৪টি ওষুধ কারখানা পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে ছিল নতুন ১৫টি এবং পুরনো ৬৯টি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১ ফেব্রুয়ারি কমিটি তাদের প্রতিবেদন সংসদীয় কমিটির কাছে জমা দেয়। প্রতিবেদন দাখিলের পর চার মাস পেরিয়ে গেলেও ২০টি কম্পানির ওষুধ উৎপাদন ও লাইসেন্স বাতিলের জন্য সুপারিশ করে।

রিটে বলা হয়, বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামতে বলা হয়েছে, এসব কম্পানির কারখানা জিএমপি নীতিমালা অনুসরণ করে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ ওষুধ উৎপাদনকালে জিএমপি নীতিমালা অনুসরণ না করলে উৎপাদিত ওষুধ মানসম্পন্ন হয় না। ফলে ব্যবহারকারীর অসুখ না সেরে বরং শরীরে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। যার কারণে প্রাণহানি ঘটতে পারে। তাই এসব ওষুধ জনস্বাস্থ্যের জন্য সার্বিক বিবেচনায় পরিত্যাজ্য। বিশেষজ্ঞ কমিটির এই মতামত দেওয়ার পরও আজ পর্যন্ত সরকার এসব কম্পানির লাইসেন্স বাতিলে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে মানহীন ওষুধ ব্যবহারের কারণে নাগরিকের প্রাণহানির সম্ভাবনা বহুগুণে বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুন