বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জাকারবার্গের ক্ষমতা কমছে

72608-markফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। বর্তমানে ফেসবুক পুরোপুরি তারই নিয়ন্ত্রণে। বিশেষ শেয়ারের অধিকারী হওয়ার কারণে তাকে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট নিয়ন্ত্রক বলা যেতে পারে। কিন্তু কোনো নিরঙ্কুশ ক্ষমতাই চিরস্থায়ী নয় এবং ফেসবুকও তাদের নিয়ম পরিবর্তন করতে যাচ্ছে, যাতে করে জাকারবার্গ কখনো কোম্পানি ছেড়ে গেলে ফেসবুকের ওপর তার নিয়ন্ত্রণও বিলীন হয়ে যায়।

ফেসবুক তার সার্টিফিকেট ইনকর্পোরেশনে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে যাতে জাকারবার্গ এর সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা শুধুমাত্র তিনি ফেসবুকের নির্বাহী পদে যতদিন আছেন ততদিনই বলবৎ থাকে। পরিবর্তনগুলোতে এটিও নির্দিষ্ট করে বলা আছে যে, ফেসবুক ছেড়ে দিলে জাকারবার্গ তার বংশধর যেমন তার কন্যা ম্যাক্সিম জাকারবার্গ বা অন্য কারো নিকট সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারবে না। এমনকি তার মৃত্যুর পরেও।

ফেসবুকের পরিচালনা বোর্ডের মতে, ‘এই নতুন নীতিগুলো এটাই নিশ্চিত করে যে আমরা একটি প্রতিষ্ঠাতা নিয়ন্ত্রিত কোম্পানি থেকে একটি প্রতিষ্ঠাতা নেতৃত্বাধীন কোম্পানিতে পরিণত হতে যাচ্ছি।’

ফেসবুক অবশ্য প্রত্যাশা করছে না যে, ৩২ বছর বয়সী জাকারবার্গ কোম্পানি ছেড়ে যাবে। কিন্তু কোম্পানি নিশ্চিত করতে চায় যে পরবর্তী সিইও যাকে কোম্পানি নিয়োগ দিবে সে যেন তার পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ না হয় কোম্পানিকে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করতে।

তাই জাকারবার্গ কখনো ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী (সিইও) পদ থেকে সরে দাঁড়ালে তার সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকবে না- সম্প্রতি শেয়ারহোল্ডারদের কাছে এ বিষয়ে প্রস্তাবনা পেশ করেছে ফেসবুক পরিচালনা পর্ষদ এবং প্রস্তাবনার পক্ষে শেয়ারহোল্ডারদের ভোট চাওয়া হয়েছে।

জাকারবার্গ ফেসবুকে যখন থাকবে না, তখন এ প্রস্তাবনা কার্যকর হবে। তার ‘বি’ শ্রেণীর শেয়ার পরিবর্তিত হতে পারে ‘এ’ শ্রেণীতে। এক্ষেত্রে দশের বদলে প্রতি শেয়ারে মাত্র একটি ভোট পাবেন তিনি।

ফেসবুক নির্বাহী এখন ৪১ কোটি ৯০ লাখ ‘বি’ ও ৪০ লাখ ‘এ’ শ্রেণীর শেয়ারের মালিক। ফলে মোট শেয়ারহোল্ডার ভোটিংয়ের ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ ক্ষমতা আছে তার দখলে। অন্যদিকে সহপ্রতিষ্ঠাতা ডাস্টিন মস্কোভিচের ‘বি’ শ্রেণীর শেয়ারে প্রক্সি দিলে জাকারবার্গের নিয়ন্ত্রণক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ শতাংশ।

এ প্রস্তাবনার আরেকটি কারণ হচ্ছে, জাকারবার্গকে নিজের জায়গাতেই বহাল রাখা। ‘বি’ শ্রেণীর শেয়ার লোকসানের আশঙ্কা তাকে পদত্যাগের চিন্তা থেকে নিবৃত্ত করবে। চলতি বছরের এপ্রিলে ফেসবুক নতুন শ্রেণীর শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাবনা পেশ করেছে। সেটা হচ্ছে ‘সি’ শ্রেণীর শেয়ার। এসব শেয়ার আসছে বছরগুলোয় কোম্পানি নিয়ন্ত্রণে জাকারবার্গকে সহায়তা করবে। প্রস্তাবনা অনুমোদন দেয়া হলে ‘এ’ ও ‘বি’ শ্রেণীর শেয়ারের বর্তমান মালিকরা পাবেন দুটি ‘সি’ শ্রেণীর শেয়ার। তবে এতে থাকবে না ভোটের অধিকার।

২০ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফেসবুকের বার্ষিক বৈঠক। ওইদিনই শেয়ারহোল্ডাররা উত্থাপিত প্রস্তাবনায় ভোট দেবেন।

ফেসবুকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা বিবৃতিতে জানান, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুর পর জাকারবার্গের শেয়ারের মালিকানা পাবেন তার উত্তরসূরিরা। ফলে কোম্পানির সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার নেতৃত্বের একটি উত্তরাধিকার শ্রেণী তৈরি হবে। কিন্তু নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এমনটি আর হবে না। কোনো কারণে জাকারবার্গ পদ থেকে সরে গেলে তিনি প্রতিষ্ঠানের একজন শেয়ারহোল্ডার হিসেবে থেকে যাবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট নিয়ন্ত্রণের অধিকার হারাবেন তিনি। অর্থাৎ পরিচালনা পর্ষদ তাদের ইচ্ছামতো সিইও নির্বাচন করতে পারবে।

আরও পড়ুন