দেশে চলমান ‘গুপ্তহত্যা’ বন্ধে জনগণের সাহায্য চেয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম। শুক্রবার সকালে ধানমণ্ডিতে দলীয় সভাপতির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ক্ষমতাসীন দলের এই প্রভাবশালী এমপি বলেন, “জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের ধরিয়ে দিয়ে আমাদেরকে অতীতের মতো সহযোগিতা করুন। তাহলে অতিসত্বর এ গুপ্তহত্যা বন্ধ হবে।”
গুপ্তহত্যা-নাশকতার সঙ্গে জড়িতরা কোনো ছাড় পাবে না বলে সতর্ক করে দিয়ে শেখ সেলিম বলেন, “নাশকতার অপরাজনীতি ক্ষণিকের জন্য মানুষের মনে ভয়ভীতি ছড়াতে পারলেও গুপ্তহত্যাকারীরা সফল হবে না। তাদের দমন করার জন্য আমাদের সরকার জিরো ট্রলারেন্সে আছে।
“যে-ই জড়িত থাকুক না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি খালেদা জিয়ার কোনো ‘লিংক’ থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গুপ্তহত্যা ও খুনের পেছনে আওয়ামী লীগই জড়িত বলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে অভিযোগ তুলেছেন তার সমালোচনা করেন তিনি।
“এর আগেও যখন দেশে পেট্রল বোমা মারা হচ্ছিল তখন বিএনপি নেত্রী সরকারের দোষ দিয়েছিলেন। সন্ত্রাসীদের ধরার পর দেখা গেল তারা বিএনপি-জামায়াতের লোক।
“এখন আবার দেশে গুপ্ত হত্যা হচ্ছে; বিএনপির চেয়ারপারসন বলছেন আমরা এসকল কর্মকাণ্ড করছি। আমরা কি আমাদের সরকারকে বিব্রত করার জন্য এসকল করছি?”
সন্ত্রাসীদের রক্ষা করতেই খালেদা জিয়া এমন কথা বলছেন অভিযোগ করে শেখ সেলিম বলেন, “এ ধরণের কর্মকাণ্ডে সরকার পতনের ‘দূরাশা’ সফল হবে না।
“গুপ্তহত্যা করে কি সরকারের পতন ঘটানো যাবে? এরকম গুপ্ত হত্যা তো নকশাল, সিরাজ শিকদাররাও করেছিল। তারা সরকারের পতন ঘটাতে পারে নাই। এখন আর তাদের অস্তিত্বও নেই।”
এর আগে দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের ঘোষণাপত্র উপ-পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সেলিম ছাড়াও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মহিউদ্দিন খান আলমগীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আলম মাহমুদ স্বপন, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবল হক শাকিল উপস্থিত ছিলেন।


