“ঐক্য ধরে রাখুন। শেখ হাসিনা এই নির্দেশনা দিয়েছেন। তা না হলে অশুভ শক্তি অনৈক্যের ফাটল দিয়ে ঢুকে আমাদের ছুরিকাহত করবে।” বুধবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যৌথসভায় একথা বলেছেন ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এক বক্তব্য ধরে জাসদ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে একই সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ দলের সাধারণ সম্পাদকের আলোচিত বক্তব্যের ব্যাখ্যায় এই তাগিদ দেন নাসিম।
গত সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের এক অনুষ্ঠানে আশরাফ পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্র তৈরির জন্য জাসদকে দায়ী করে বলেন, এই দল থেকে মন্ত্রী করার জন্য আওয়ামী লীগকে আজীবন প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।
স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে আলাদা দল গঠন করে বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরোধিতায় নামা জাসদ এখন ১৪ দলে রয়েছে। এই দলটির একাংশের সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে মন্ত্রী করেছেন শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগ-জাসদ রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে পঁচাত্তরের ১৫ অগাস্ট একদল সেনা কর্মকর্তা সপরিবারে হত্যা করেছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।
তার তিন মাসের মধ্যে কারাগারে যে চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করা হয়, তাদের একজন সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে আশরাফ।
সৈয়দ নজরুলের মতোই জেল হত্যাকাণ্ডের শিকার এম মনসুর আলীর ছেলে নাসিম বর্তমান প্রেক্ষাপটে ১৯ জুন সারাদেশে গুপ্তহত্যার প্রতিবাদে জোটের কর্মসূচির আগে ১৪ দলের ঐক্য অটুট রাখার উপর জোর দেন।
“১৪ দল আরও সম্প্রসারিত হবে, ঐক্যও সম্প্রসারিত হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।”
আশরাফের বক্তব্য নিয়ে নাসিম বলেন, “১৪ দলের মূল নেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ১৪ দলের ঐক্যের প্রতীক। তার অনুপ্রেরণায় ১৪ দল গঠিত হয়েছে।
“১৪ দল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন আদর্শিক জোট। শুধু ক্ষমতা ভাগাভাগি, নির্বাচনের জন্য নয়, একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই ১৪ দল গঠিত হয়েছে। ১৪ দল আছে, থাকবে। যত দিন আমাদের লক্ষ্য অর্জন না হয়, তত দিন থাকবে। প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, ১৪ দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিয়ে যান।”
পঁচাত্তরের ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেও ঐক্যবদ্ধ থাকার কথাও বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম।
আশরাফের বক্তব্যে জাসদের বিভিন্ন অংশ প্রতিবাদ জানিয়েছে। এতে ঐক্য নষ্ট হবে বলেও মন্তব্য এসেছে। বর্তমান রাজনীতিতে ইতিহাসের ওই সময়টুকু টেনে না আনার আহ্বানও জানিয়েছেন ইনু।
আশরাফের বক্তব্যের বিষয়ে হানিফ বলেন, “ছাত্রলীগের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জ্ঞানদান করার জন্য নানা কর্মশালা করা হয়। হয়ত সেই প্রেক্ষাপটে অতীতের একটি ইতিহাস সম্পর্কে সৈয়দ আশরাফ সাহেব এটা বলেছেন।
“কিন্তু এর মানে এই নয় যে, আমাদের ১৪ দলের মধ্যে কোনো অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সব অতীতকে জেনেই ঐক্য করেছি। আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে চাই, ১৪ দলের মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি নেই।”
আশরাফের ওই বক্তব্য ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও জাসদের ১৯৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন। শেখ হাসিনা ইতিহাস ভুলে এখন দলের নেতাদের রেখে জাসদকে মূল্যায়ন করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হানিফ বলেন, আশরাফের ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কারও উসকানিতে কোনো লাভ হবে না।
সভায় আওয়ামী লীগ নেতা ও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, “আমরা কোনো বিভেদ চাই না, ভুল বোঝাবুঝির অবসান চাই। ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।
“এখন একাত্তরের চেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধে লিপ্ত আছি। সেই যুদ্ধে আমাদের জয়লাভ করতেই হবে। এ জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।”


