রাজধানীর রামপুরা থানাধীন বনশ্রী আবাসিক এলাকায় দুই শিশু সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামি মা মাহফুজা মালেক জেসমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
নিজ শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করার দায়ে পেনাল কোডের ৩০২ ধারা মোতাবেক আদালতে ওই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় বলে বুধবার আদালতে চার্জশিট দাখিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিবির খিলগাঁও জোনাল টিমের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল হোসেন।
গত ২৯ ফেব্রুয়ারি হত্যাকাণ্ডের পর শিশুদের পিতা বাদি হয়ে গত ৩ মার্চ রামপুরা থানায় তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে গতকাল এ চার্জশিট দেয়া হয় বলে জানা যায়।
আসামি মাহফুজা মালেক জেসমিন জানান, ছেলে-মেয়ের পরীক্ষায় ভাল ফলাফল না করায় এবং পড়া-লেখার উন্নতির জন্য গৃহশিক্ষক রাখার পরও ছেলে-মেয়ের পড়ালেখার উন্নতি না হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে হতাশ হয়ে পড়েন এবং এ সন্তান ভবিষ্যতে কোনো কিছু করতে পারবে না এমন সন্তান পৃথিবীতে থাকার চেয়ে না থাকাই উত্তম এমন ধারণা তার মধ্যে জন্ম নেয়। এমন বদ্ধমূল ধারণা থেকেই আসামি তার সন্তানদের হত্যা করেন।
দাখিলকৃত চার্জশিট অনুযায়ী ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
ঘটনার দিন ২৯/২/১৬ বেলা ১২টার দিকে ভিকটিম আলভি আমানকে (৭) আসামি স্কুল হতে বাসায় নিয়ে আসেন। ভিকটিম নূসরাত আমান অরনী (১২) স্কুল শেষে বেলা দেড়টার দিকে বাসায় আসে। দুপুরে খাবারের পর ভিকটিম আলভি আমান বাসার কক্ষে ঘুমিয়ে (ঘটনাস্থল) পড়ে।
ভিকটিম নুসরাত আমান অরনীর প্রাইভেট শিক্ষিকা আসবে মর্মে না ঘুমিয়ে অপেক্ষা করে। গৃহ শিক্ষিকা বেলা ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ভিকটিম নুসরাত আমান অরনীকে অংক পড়ায় এবং গৃহ শিক্ষিকা ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ভিকটিম নুসরাত আমান অরনীকে ইংরেজি পড়ায়।
গৃহ শিক্ষিকাদ্বয় প্রাইভেট শেষে চলে যাওয়ার পর ভিকটিম নুসরাত আমান অরনী (১২) ঘুমানোর জন্য বাসার কক্ষে (আসামির বেড রুম) যায়।
ভিকটিমকে পড়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে ভিকটিম গৃহ শিক্ষিকার নিকট পড়া সঠিকভাবে পারেনি বলে প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গে আসামি মহফুজা মালেক জেসমিন উত্তেজিত হয়ে ভিকটিম নূসরাত আমান অরনী (১২) এর গলায় হাত দিয়ে চেপে ধরে এবং এক পর্যায়ে আসামি তার ওড়না দিয়ে ভিকটিমের গলায় শক্তভাবে পেঁচিয়ে ধরে। ভিকটিম বাঁচার জন্য ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে খাটের ওপর হতে নিচে ফ্লোরে পড়ে যায়।
আনুমানিক ১৫ মিনিট গলা পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করে ভিকটিম নুসরাত আমান অরনীর মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে ভিকটিম নুসরাত আমান অরনীর গলা হতে ওড়না খুলে নিয়ে তার ছেলে আলভী আমানকে (৭) ঘুমন্ত অবস্থায় ভিকটিমের মুখে ওড়না দিয়ে চেপে ধরার মাধ্যমে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে।
মামলাটি তদন্ত শেষে উক্ত আসামির বিরুদ্ধে নিজ সন্তানদ্বয়কে নৃশংসভাবে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে বুধবার পেনাল কোডের ৩০২ ধারা মতে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে বলে ডিবি পুলিশ জানিয়েছে।


