বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

‘জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চায় সরকার’

bnp--দেশে কারও নিরাপত্তা নেই মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেছেন, গুম-খুনের মাধ্যমে সরকার টিকে থাকার চেষ্টা করছে। জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চায় সরকার। এ জন্য একদলীয় শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের জনগণকে জিম্মি করে তাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তবে এভাবে বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না, পতন একদিন হবেই।

শুক্রবার রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট মিলনায়তনে গুম, খুন, হত্যা ও গ্রেফতারের ঘটনায় আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দেশের নিরাপত্তার ব্যাপারটি আজ সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে মন্তব্য করে মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশ নিয়ে যারা চিন্তা করেন তারা আজ শঙ্কিত, আর সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কিত। বাংলাদেশ নিয়ে আজ পৃথিবীজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। সেটা পারিবারিক, ব্যক্তিগত কিংবা জাতীয় যে ধরনের নিরাপত্তাই হোক না কেন।

তিনি আরও বলেন, গুম-খুন-হত্যা আজ নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, খ্রিস্টান ধর্মযাজকসহ সব ধর্মের লোককে হত্যা করা হচ্ছে। কিন্ত প্রকৃত হত্যাকারীদের না ধরে এসব ঘটনার জন্য বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করছে সরকার। এতে করে হত্যাকারীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে।

মাহবুবুর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রকৃত হত্যাকারীদের না ধরে বিএনপি-জামায়াতকে এভাবে দোষারোপের ঘটনা অব্যাহত থাকলে ব্লেইম গেইমের আড়ালে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হতে পারে, যেটা কাম্য নয়।

বিএনপির এই নেতা বলেন, সাধারণত দুর্বৃত্তরা দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে থাকে। কিন্তু সরকারই আজ দেশে অরাজকতা তৈরি করছে। দেশে এখন রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন হচ্ছে। জঙ্গি দমনে সাঁড়াশি অভিযানের নামে দেশজুড়ে গণ-গ্রেফতার চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ২০ থেকে ২৫ হাজার লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির ৪ থেকে ৫ হাজার নেতা-কর্মী রয়েছে। এতো লোককে গ্রেফতার করা হচ্ছে যে, জেলখানা উপচে পড়ছে। সেখানে তিল ধারণের আর জায়গা নেই। এভাবে চলতে পারে না।

মাহবুবুর রহমান বলেন, জাতির ক্রান্তিকালে দল-মত-শ্রেণি নির্বিশেষে এখন জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। দেশপ্রেমিক সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য তৈরি করে সমস্যার সমাধান করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে। তাদের দায়িত্ব সমস্যা সমাধানে জাতীয় সংলাপের আয়োজন করা। এ জন্য প্রয়োজনে সম্মিলিতভাবে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে সরকার জাতীয় সংলাপের আয়োজন করতে বাধ্য হয়।

জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

আরও পড়ুন