বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

নৌ-প্রটোকল উন্নয়নে ৩৬০ মিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক

4-30ব্যস্ততম অভ্যন্তরীণ নদীপথ উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৩৬০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির সর্বশেষ পরিচালনা পর্ষদ সভায় এ ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়। মূলত বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল ও ভুটানকে করিডর প্রদানের উদ্দেশেই এ ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

‘বাংলাদেশ রিজিওনাল ওয়াটারওয়ে ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট-১’ এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম-ঢাকা ও আশুগঞ্জের মধ্যকার ৯০০ কিলোমিটারের নদীপথ উন্নয়নে কাজ করা হবে। যা কার্গো ও যাত্রীর ভ্রমণ ব্যয় ও সময় কমানোর পাশাপাশি জাতীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে সহায়তা করবে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানের বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিউমিয়াও ফান বলেন, ‘বাংলাদেশ সড়ক, নৌ ও রেলপথের উন্নয়নের মাধ্যমে আন্ত-আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে পারে। নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের রয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহনের বড় সুযোগ। যা শক্তিশালীকরণ করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তা বড় অবদান রাখবে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও এর প্রতিবেশিদের বিভিন্ন যোগাযোগপথের আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে কাজ করবে।’

বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় পানগাঁওয়ে একটি কার্গো টার্মিনাল নির্মিত হবে। একই সঙ্গে আশুগঞ্জের কার্গো টার্মিনালের উন্নয়ন সাধনও করা হবে। প্রকল্পের আওতায় সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর ও বরিশালের যাত্রী টার্মিনালেরও সংস্কার কাজ করা হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করতে চরাঞ্চলে নির্মিত হবে ১৪টি টার্মিনাল। এসব এলাকায় এখনও নৌপথই চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। প্রকল্পের আওতায় টার্মিনালগুলোতে নিরাপত্তা ও সেনিটশেন (বিশেষ করে নারীদের) ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে বয়স্ক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং নারীদের জন্য আলাদা টয়লেট ও ওয়েটিংরুমেরও ব্যবস্থা করা হবে।

প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত ও নেপাল ‘রিজিওনাল কানেক্টিভিটি অ্যান্ড ইন্টিগ্রেশন প্রোগ্রাম’ এর একটি অংশ। প্রকল্পটি অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে। এর আরও একটি উদ্দেশ্য হলো- একে আর্থিক ও কার্যক্রমের (অপারেশনাল) দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব দেওয়া।

প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের টিম লিডার দিয়েপ গুয়েন-ভেন হট্টি বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া ও নিম্নমান এবং লজিস্টিক চেইনে বিলম্ব বাণিজ্য ব্যয় বৃদ্ধি করে। এতে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশি পণ্য। বহুমুখী নদীপথের উন্নয়নে উপাঞ্চলে (সাব রিজিওন) ব্যবসায়ী, উৎপাদক, যাত্রী ও কার্গোর চলাচল সহজ হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, একই সঙ্গে যেসব অতি দরিদ্র নদীপথের ওপরই নির্ভরশীল, তাদেরকেও এটি সহযোগিতা করবে।

প্রসঙ্গত, ৩৬০ মিলিয়ন ডলারের এ ঋণ ৩৮ বছর মেয়াদি। দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদে এর গ্রেড পিরিয়ড ৬ বছর।

আরও পড়ুন