গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ বন্দি মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর সঙ্গে তার স্বজনরা সাক্ষাৎ করেছেন।
শনিবার দুপুরে মীর কাশেম আলীর পরিবারের ৯ সদস্য তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন।
কারাগার-২ সূত্রে জানা গেছে, মীর কাসেম আলীর সঙ্গে তার স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন, ছেলে মীর আহমেদ বিন কাসেম, পুত্রবধূ সায়েদা ফাহমিদা আক্তারসহ পরিবারের ৯ সদস্য দেখা করতে কারাগারে আসেন। পরে তারা কারাগারের একটি কক্ষে স্বাক্ষাৎ করেন।
এদিকে আগামী ২১ জুনের মধ্যে মীর কাসেম আলী আপিলের রায়ের রিভিউ চাইবেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী মো. মতিউর রহমান আকন্দ। বলেন, “রিভিউর ড্রাফ্ট লেখার কাজ প্রায় চূড়ান্ত। চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কাশিমপুর কারাগারে গিয়ে মীর কাসেম আলীকে তা দেখানো হবে।”
যুদ্ধাপরাধ মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের রায় আসার পর রিভিউ আবেদনই বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ।
নিয়ম অনুযায়ী, আসামিপক্ষ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবে। রিভিউ নিষ্পত্তির আগে দণ্ড কার্যকর করা যাবে না।
রিভিউ না টিকলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন একাত্তরের বদর নেতা মীর কাসেম। সে আর্জি নাকচ হলে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে কারা কর্তৃপক্ষ দণ্ড কার্যকরের ব্যবস্থা নেবে।
২০১২ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকেই মীর কাসেম কাশিমপুর কারাগারে বন্দি। ফাঁসির দণ্ড ঘোষণার পর তাকে কারাগারের ফাঁসির সেলে নেওয়া হয় বলে জানান জেলার নাশির।
২০১৪ সালের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মীর কাসেমকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ বছরের ৮ মার্চ আপিলের রায়েও বহাল থাকে সেই সাজা।
বিচারকরা সই করার পর গত ৬ জুন রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। এরপর মীর কাসেমের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।


