রাজধানীর খিলগাঁওয়ে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম শরিফুল। তিনি পুরস্কার ঘোষিত ছয় জঙ্গির একজন। লেখক অভিজিৎ রায়সহ প্রগতিশীল লেখক, প্রকাশক ও ব্লগার হত্যার ‘যত ঘটনা ঘটিয়েছে’ তার প্রত্যেকটির সঙ্গে শরীফ ওরফে সাকিব কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, গত ফেব্রুয়ারিতে লেখক অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন ৩০ বছর বয়সী এই যুবক।
শনিবার রাত ২টার দিকে ঢাকার খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া বাঁশপট্টি এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে শরিফুল নিহত হন।
পুলিশ বলছে, সাকিব, শরিফ, সালেহ, আরিফ ও হাদী নাম ব্যবহার করে পরিচয় গোপন করে আসছিলেন শরিফুল। তাকে ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
ডিএমপি নিউজে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া এলাকায় মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শরিফুল নিহত হন।
পুলিশের দাবি, নিহত শরিফুল একাধিক নামে পরিচিত। যেমন: সাকিব ওরফে শরীফ ওরফে সালেহ ওরফে আরিফ ওরফে হাদি। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সামরিক ও আইটি শাখার প্রধান ছিলেন।
পুলিশের দাবি, অভিজিৎ হত্যার তদন্তে সিসিটিভির ফুটেজে শরিফুলের উপস্থিতি ধরা পড়েছে।
ডিবির উপকমিশনার (দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া পুরস্কার ঘোষিত জঙ্গি সুমন হোসেন পাটোয়ারির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে গতকাল দিবাগত রাতে খিলগাঁও এলাকায় অভিযানে যায় ডিবি। এ সময় সন্দেহভাজন তিন যুবকের সঙ্গে ডিবির গুলিবিনিময় হয়। এতে একজন নিহত হয়।
মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, ‘প্রথমে আমরা নিহত যুবককে চিনতে পারিনি। পরে দেখি, তাঁর সঙ্গে পুরস্কার ঘোষিত জঙ্গি শরিফুলের মিল রয়েছে।’
ডিবির দাবি, তাদের একটি দল মেরাদিয়া এলাকায় তল্লাশি অভিযানে যায়। সন্দেহ হওয়ায় মোটরসাইকেলের তিন আরোহীকে ধাওয়া করা হয়। মোটরসাইকেলের আরোহীরা ডিবিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ডিবিও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী পালিয়ে যায়। একজন গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
ডিএমপি নিউজের দাবি, নিহত শরিফুল আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের বিভিন্ন অভিযানের জন্য সদস্য নির্বাচন ও সংগ্রহে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।
গত ১৯ মে লেখক অভিজিৎ রায়, প্রকাশক ফয়সল আরেফিনসহ (দীপন) অন্তত ১০টি হত্যায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে ধরিয়ে দিতে তাঁদের নাম ও ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ করে ডিএমপি। এই ছয়জন হলেন সুমন, শরিফুল, সেলিম, সিফাত, রাজু ও সাজ্জাদ। তাঁদের ধরিয়ে দিলে দুই লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
পুলিশ বলছে, পুরস্কার ঘোষিত ছয়জনের মধ্যে সুমনকে গত বুধবার রাতে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি প্রকাশক আহমেদুর রশীদকে (টুটুল) হত্যাচেষ্টায় জড়িত। তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাকি পাঁচজনের মধ্যে একজন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেন।


