বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

তিস্তার চুক্তি নিয়ে মমতায় আস্থা বাংলাদেশের

1466433166ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তা পানি বন্টন চুক্তি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর পূর্ণ আস্থা আছে বলে জানিয়েছেন হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলি। সোমবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাত শেষে এমনটাই জানালেন নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ এই হাই কমিশনার।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকারের শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে আমরা এসেছিলাম। পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয়বারের জন্য বিশাল জয় নিয়ে ক্ষমতায় আসা মমতা সরকারের উন্নতির লক্ষ্যে আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাতে বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়েও আলোচনা করেছি।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে বলেন, এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশ সফরে গিয়ে তিস্তার ব্যাপারে বলেছিলেন, আমার ওপর আস্থা রাখুন। আমরা সেদিনও তার ওপরে আমাদের পূর্ণ আস্থার কথা ব্যক্ত করেছি। আশা করি উনি যথাসময় ব্যবস্থা নেবেন।

ঢাকায় অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশনের হুমকি বিষয়ে বলেন, রামকৃষ্ণ মিশন গ্রুপ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। তবে সিকিউরিটি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশের মধ্যে একটা সমঝোতা ব্যবস্থা আছে। আমরা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশনের হুমকি বিষয়ে জোরদার ব্যবস্থা নিয়েছি।

ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থায় পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে তিনি যথেষ্ট কার্যকরী ব্যবস্থা বলেও আস্থা প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে দিল্লির সঙ্গে আমাদের কি আলোচনা চলছে তা এদিন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অবিহিত করেছি আমরা।

পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের ইলিশ রফতানি প্রসঙ্গে সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলি হাসতে হাসতে বলেন, এদিন ইলিশ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। তাছাড়া এখানকার বাজারে তো দেখলাম প্রচুর ইলিশ উঠেছে। তবে আমরা নিশ্চয়ই ইলিশ রফতানি করতে চাই। তারজন্য পোর্ট ফ্যাসিলিটি বাড়াতে হবে। না হলে ইলিশ আনতে আনতেই তো পচে যাবে।

হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলাদেশের যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমরা বলেছি, আপনার যখন সময় হবে বাংলাদেশে আসবেন। বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ রইলো।

সোমবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাতে ভারতের  নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলি ছাড়াও উপস্থত ছিলেন  দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী, কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার জকি আহাদ এবং কাউন্সেলর মিয়া মহম্মদ মইনুল কবির।

আরও পড়ুন