বাংলাদেশ থেকে কলকাতা হয়ে দিল্লি পৌঁছান কাশ্মীরের শ্রীনগরের এক ছাত্রী। সেখান থেকে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানে করে তার শ্রীনগরে যাওয়ার কথা। কিন্তু তিনি কালো হ্যান্ডব্যাগে মজা করে লিখেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ বোম’। অর্থাৎ আমার কাছে একটি বোমা আছে। ওই লেখার দিকে চোখ পড়ে নিরাপত্তা কর্মীদের। অমনি বিমানবন্দরজুড়ে সৃষ্টি হয় আতঙ্ক। ফল যা হবার তাই হলো। গোয়েন্দারা ঘেরাও করে ফেললো ওই ছাত্রীকে। একের পর এক জিজ্ঞাসা।
ঢাকার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পড়ছে ওই ছাত্রী।
তার হ্যান্ডব্যাগ তল্লাশি করে দেখতে পেল তাতে কিছু বই ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।
তাহলে কেন তিনি অমন বাক্য লিখেছেন? এ প্রশ্নের জবাবে ওই ছাত্রী জানান, আমরা তো বইকে বোমা হিসেবে বিবেচনা করি, তাই। নিতান্তই মজা করে এই কথা লিখেছেন তিনি। ২ ঘণ্টার বেশি তাকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করা হয়। ততক্ষণে তার নির্ধারিত ফ্লাইট আকাশে উড়েছে। তিনি ফ্লাইট মিস করলেন। বাধ্য হয়ে তাকে অবস্থান করতে হলো দিল্লিতে জম্মু-কাশ্মীর ভবনে।
অনলাইন ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, ওই কাশ্মীরি ছাত্রীর বয়স ২১ বছর। তিনি বাংলাদেশ থেকে দেশে ফিরছিলেন। এ জন্য তিনি প্রথমে কলকাতা যান। সেখান থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে। কিন্তু সেখানে গিয়ে যখন তিনি ফ্লাইট ধরবেন তখন তার হ্যান্ডব্যাগের ওই লেখায় চোখ পড়ে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের (সিআইএসএফ) নিরাপত্তাবিষয়ক এক সদস্যের। সঙ্গে সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়।
এ সময় ওই ছাত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার এক বন্ধু। তার এ অবস্থা দেখে তিনিও তার সঙ্গে থেকে যান, যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে মুক্তি দেয়া না হচ্ছিল।
সিআইএসএফ দিল্লি পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই কাল বিলম্ব না করে ছুটে যায় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। তারা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে ওই ছাত্রীকে। জানতে চায়, কেন সে তার হ্যান্ডব্যাগে ওই কথা লিখেছে।
জবাবে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ওই ছাত্রী জানান, আমরা তো ক্যাম্পাসে বইকে বোমা হিসেবে মনে করি। তাই এ কথা লিখেছি।
বিমানবন্দরের ডিসিপি ডিকে গুপ্ত বলেন, তাকে আটক করে যথাযথ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
ওদিকে ওই ছাত্রীকে আটকের ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে টুইট করেন জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। তাদেরকে বিষয়টি দেখার অনুরোধ করেন। বলেন, কাশ্মীরের দুটি মেয়ে আটক রয়েছে দিল্লি বিমানবন্দরে। তাদের পিতামাতারা উদ্বিগ্ন রয়েছেন। এ বিষয়ে কোন সহযোগিতা ও তথ্য দিলে তাতে তাদের পরিবার ও স্বজনরা খুশি হবে।


