তুরস্ক যেতে নগদ তিন লাখ ত্রিশ হাজার টাকার পাশাপাশি নয় লাখ টাকার দুটি চেকও দিয়েছেন। কিন্তু বিমানবন্দরে এসে তাদের ভিসা ও ‘ওয়ার্ক পারমিট’ দুটোই ভুয়া বলে জানতে পারলেন দুই ভাই।
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোববার এ ঘটনার সম্মুখীন হন ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা মুরাদ হোসেন ও মো. নুরুজ্জামান।
বিমানে ওঠার আগে প্রতারক চক্র তাদের কাছে থাকা এক হাজার ডলার কেড়ে নিতে চাইলে বিবাদের শুরু হয়। এক পর্যায়ে বিমানবন্দরে থাকা আনসার সদস্যরা এগিয়ে আসেন। আটক করা হয় প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত এসে পরীক্ষা করে জানায়, তাদের ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট- দুটোই জাল।
এ ঘটনায় আশরাফুর রহমান, মনির ফরাজি, হারুন শিকদার ও আবদুল হালিম নামে প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান।
সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মুরাদ হোসেন ও নুরুজ্জামানের সঙ্গে আলাপচারিতায় প্রতারণার ফাঁদে পড়ার পুরো বিষয়টি উঠে আসে।
রাজধানীর বঙ্গ বাজারে ‘ঢালি কালেকশন’ নামের একটি পোশাকের দোকান ছিল এই দুই ভাইয়ের। ব্যবসায় ক্ষতি হওয়ায় দোকান বন্ধ করে দেন বলে তারা।
মুরাদ হোসেন বলেন, প্রায় সাড়ে নয় মাস আগে ঢাকার মিরপুরে ইরফান নামের এক লোকের সঙ্গে পরিচয় হয়।
“তিনি তাবলীগ জামাত করতেন। স্থানীয় মসজিদে তার সাথে পরিচয়। পরে ইরফান চাকরি নিয়ে গ্রিসে চলে যান। বিদেশের একটি নম্বর থেকে তিনি মাঝে মাঝে ফোন করতেন।”
মুরাদ বলেন, “ইরফান আমাদের সাথে আলী নামের একজনের পরিচয় করিয়ে দেয়। দু্বাই থেকে ইরান হয়ে তুরস্ক যাওয়ার জন্য মোট নয় লাখ টাকায় মৌখিক চুক্তি হয়। সেখান থেকে গ্রিসে যাওয়ার কথা ছিল।
“আলীর মাধ্যমে আবদুল হালিম ও হাবিব নামে আরও দু’জনের সাথে পরিচয় হয়। প্রায় নয় মাস আগে মিরপুর ১ নম্বরের বাসিন্দা হাবিব এবং বাসাবোর বাসিন্দা হালিমকে বিভিন্ন কিস্তিতে মোট তিন লাখ ত্রিশ হাজার টাকা দিই।”
এই টাকা দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তাদের তুরস্কে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল দাবি করে মুরাদ বলেন, “কিন্তু নেয়নি।
“সবশেষ দুই মাস আগে ঢাকার পল্টনে মার্কস ট্রাভেলস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক খলিল হুজুরের কাছে আমাদের নিয়ে যায় হালিম। সেটি তাদের অফিস বলেও জানায়।”
এরপর ১৯ জুন চট্টগ্রাম থেকে এয়ার এরাবিয়ার একটি বিমানে করে তাদের দুবাই নিয়ে যাওয়া হবে বলে গত বৃহস্পতিবার মুরাদ ও নুরুজ্জামানকে জানায় প্রতারক চক্র।
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার মালিবাগ এলাকায় আলী তাদের কাছ থেকে এক হাজার ডলার নিয়ে নেয় জানিয়ে মুরাদ বলেন, “আমাদের দেওয়া টাকা নিয়ে সোহাগ পরিবহনের বাসে টিকেট কেটে দেয় আলী।
“তার প্রাপ্য হিসেবে সে এক হাজার ডলার নিয়ে নেয়। এছাড়া ডাচ বাংলা ব্যাংকের চার লাখ ও পাঁচ লাখ টাকার দুটি চেক দিই। পরে তুরস্ক পৌঁছে গেলে এর থেকে তিন লাখ ত্রিশ হাজার টাকা আমার পরিবারকে ফেরত দে্ওয়ার কথা ছিল।”
চট্টগ্রামে এনে তাদেরকে নগরীর চৌমুহনীতে দুবাই হোটেলে রাখা হয়।
নুরুজ্জামান বলেন, হোটেলে ওঠার পর ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট দেখতে চাইলেও তা দেখানো হয়নি। তারা বলে বিমানবন্দরে গেলে দেবে।
“হোটেলের কক্ষে আমাদের সাথে দেখা করেন আশরাফুর রহমান, মনির ফরাজি, হারুন শিকদার ও আবদুল হালিম। রোববার সকালে আমাদের ফ্লাইট আছে বলে বিমানবন্দরে নেওয়া হয়।”
মুরাদ বলেন, বিমানবন্দরের টার্মিনালে না নিয়ে আমাদের কেন্টিনে বসানো হয়। তখন আমি ভিসা চাইলে হালিম আরও এক হাজার ডলার দিতে বলে।
“তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হালিম আমাকে বিমানবন্দর থেকে ফিরতে দেবে না বলে হুমকি দেয়। এরপর আমি চিৎকার করতে শুরু করলে আনসার সদস্যরা এগিয়ে আসে।”
পরে বিমানবন্দরের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এগিয়ে এসে প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে আটক করে।
রোববার রাতে বিমানবন্দরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে যান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান।
তিনি বলেন, দুই ভাইকে দেওয়া ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট জাল। আশরাফুর ও মনির ফরাজী এই প্রতারক চক্রের চট্টগ্রাম অংশের হোতা।
আটকদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।


