ঈদকে সামনে রেখে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রথম দিন ছিল বুধবার (২২ জুন)। এদিন সকাল থেকেই রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে টিকিট প্রত্যাশী হাজারো মানুষের ভিড় চোখ পড়ে। টিকিট বিক্রির নির্ধারিত সময়ের অন্তত ২০ ঘণ্টা আগে থেকে অনেকে স্টেশনে অবস্থান নেন। সামনের দিনগুলোতে ভিড়ের মাত্রা আরো কয়েকগুণ বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও প্রথম দিন অনেকেই ঝামেলা ছাড়াই টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন।
ঈদকে সামনে রেখে প্রতিদিনই ভিড় আর টিকিট না পাওয়ার মাত্রা বাড়বে। তবে গ্রাহকরা চাইলে স্টেশনে না গিয়ে মোবাইল অ্যাপ দিয়েও সুবিধামতো সময়ে টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন।
স্টেশনের ২২টি কাউন্টারের সামনে হাজারো টিকিট প্রত্যাশী যখন অপেক্ষার প্রহর গুণছে, তখন আপনি ঘরে বসেই সেই কাঙ্ক্ষিত টিকিটটি পেতে পারেন।
মুঠোফোনে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যারা ট্রেনের আগাম টিকিট কিনছে, তারা স্টেশনের নির্ধারিত ১৯ নম্বর কাউন্টার থেকে তা সংগ্রহ করতে পারছে। বুধবার সকাল থেকে এই কাউন্টারে ভিড় ছিল না বললেই চলে।
কাউন্টারে এসে ফিরতি এসএমএস ও কোড নম্বর দেখালেই টিকিট দেয়া হয়। মুঠোফোনের এসএমএস অথবা তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহের এই পদ্ধতিটি অনেকের কাছেই অজানা। তবে প্রক্রিয়াটি বেশ সোজা।
এ ব্যাপারে রেলওয়ে সূত্র জানায়, দেশের শীর্ষ দুটি মুঠোফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক এই সেবা দিচ্ছে। সেবা পাওয়ার জন্য এই দুটি প্রতিষ্ঠানের যেকোনোটির একটি নম্বর থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়।
Android অ্যাপটিতে এসএমএসে ও মুঠোফোনে ওয়েবসাইটে টিকিট কেনার পুরো প্রক্রিয়ার বর্ণনা রয়েছে এবং এখান থেকে এক ক্লিকেই টিকিট কাটতে পারেন রেজিস্ট্রেশন করা যেকোনো গ্রাহক।
সেখানকার তথ্য অনুযায়ী, টিকিট কেনার আগে গ্রাহককে তার মুঠোফোনে প্রয়োজন মতো টাকা রিচার্জ করে নিতে হবে। অথবা আপনার ডাচ বাংলা, ব্র্যাক ও মাস্টার কার্ড ভিসা কার্ড দিয়েও টিকেট কাটতে পারবেন। অর্থাৎ, টিকিট কেনার মতো পর্যাপ্ত টাকা মুঠোফোনে থাকতে হবে।
যারা মোবাইল অ্যাপ দিয়ে অনলাইনে টিকিট কিনতে চান, আপনারা সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন। কারন, এ সময় সার্ভার খুব একটা ব্যস্ত থাকে না, তবে যেকোনো সময় টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে অপশনগুলো অটোমেটিকলি আসবে। সেগুলো একটার পর একটা বেছে নিতে হবে।
এসএমএসসহ ওই কোড নম্বরটি রেলস্টেশনের নির্ধারিত কাউন্টারে অথবা সংশ্লিষ্ট মুঠোফোন অপারেটরের নির্ধারিত কাউন্টারে দেখিয়ে টিকিট সংগ্রহ করা যায়।
এই অ্যাপ এর মাধ্যমে আরো জানতে পারবেন, বাংলাদেশের সকল রেল স্টেশনের সময়সূচি, অনলাইনে ও এসএমএসে টিকিট কাটার সুবিধা, টিকিটের মূল্যসহ সকল স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। বিকল্প ট্রেনের সময়সূচিসহ আরো অনেক ফিচার।
কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘রেলের মোট টিকিটের ২৫ ভাগ অনলাইন ও মুঠোফোনের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। ঈদের সময়ও এভাবে টিকিট বিক্রি হয়। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট কিনতে পারেন।’
সুতরাং নিশ্চিত ও নির্ভাবনায় ঝামেলা ছাড়াই ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করুন মোবাইল অ্যাপ দিয়ে। Android মোবাইলের জন্য appটি Download করতে পারেন। ডাউনলোড লিংকঃ https://play.google.com/store/apps/details?id=com.sattartechtunesbd07.trainticketbangladesh


