গণতন্ত্রের ঘাটতি বড় কোনো সমস্যা নয় বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘ভালো নেতৃত্ব ও দেশে শান্তি থাকলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবেই। গণতন্ত্রের ঘাটতি বড় কোনো সমস্যা নয়। পৃথিবীর যেসব দেশ বড় হয়েছে, তাদের মধ্যে কোরিয়া ও সিঙ্গাপুর এ ক্ষেত্রে উৎকৃষ্ট উদাহরণ। সব জিনিস একসঙ্গে হয় না। মিডিয়ার (গণমাধ্যম) কাছে অনুরোধ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে সমর্থন দিন।’
ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আঙ্কটাড) ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট (ডব্লিউআইআর) বা বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রতিবেদন ২০১৬ আনুষ্ঠানিকভাবে আজ বুধবার প্রকাশ করে বাংলাদেশের বিনিয়োগ বোর্ড (বিওআই)। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ প্রতিবেদনটি একযোগে প্রকাশ করেছে আঙ্কটাড। রাজধানীর দিলকুশায় বিনিয়োগ বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান এস এ সামাদ। আর প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম ইসমাইল হোসেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা স্বর্ণযুগে না হলেও একটা ভালো যুগে পদার্পণ করেছি। আমরা সবাই মিলে যদি কিছু সহনশীল হতাম এবং আরও শক্তি জোগাড় করে তরুণ সমাজের হাতে তুলে দেওয়া যায়, তাহলে বাকিটা তারা দেখবে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সারা বিশ্বে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) হয়েছে ১ দশমিক ৭৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার (১ লাখ কোটি ডলারে এক ট্রিলিয়ন ডলার)। এটি ২০১৪ সালের চেয়ে ৩৮ শতাংশ বেশি।
এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে গত বছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের এফডিআই এসেছে বাংলাদেশে। এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এফডিআই। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪২০ কোটি ৮০ লাখ ডলার এফডিআই এসেছে ভারতে। তবে এ ক্ষেত্রে ভারতের (২৭ শতাংশ) চেয়ে বাংলাদেশের (৪৪ শতাংশ) প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে। বাংলাদেশে ২০১৪ সালে ১৫৫ কোটি ডলারের এফডিআই এসেছিল।
আঙ্কটাডের প্রতিবেদনের তথ্য দিয়ে এম ইসমাইল হোসেন বলেন, চলতি বছর সারা বিশ্বে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমে আসবে। কারণ, বিশ্ব অর্থনীতি এখনো শক্তিশালী হয়নি। অনেক দেশে এখনো মন্দা চলছে। আবার দেশগুলোর সামগ্রিক চাহিদা কম। রপ্তানিকারক দেশগুলোতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়েছে। এ ছাড়া অনেক দেশ এফডিআইয়ে উৎসাহিত নয়। তবে আগামী বছর পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ২০১৮ সালে ১ দশমিক ৮০ ট্রিলিয়ন ডলারের এফডিআই আসতে পারে সারা বিশ্বে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।


