স্থানসংকুলান না হওয়ার অজুহাতে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাসের সময় সাড়ে ৮টার পরিবর্তে সাড়ে ১০টায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে প্রায় ১৮শ শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হঠাৎ করে সময় পিছিয়ে দেয়ায় বিপদে পড়তে হবে তাদের। এখন এমন সময় তাদের ছুটি হবে যখন রাস্তায় প্রচণ্ড যানজট থাকে। জ্যাম বাসায় পৌঁছাতে অনেক রাত হয়ে যাবে। আবার সকালে এসে ক্লাস ধরা কঠিন হবে। এছাড়া নিরাপত্তার বিষয়টিও আছে।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত সিদ্ধেশ্বরী শাখার সামনে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলে, আগে আমাদের ক্লাসের সময় ছিল সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ২টা পর্যন্ত। এখন সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ঠিক করেছে। আমি উত্তরা থেকে আসি। অনেকে আরো দূর থেকে আসে। সাড়ে ৫টায় ক্লাস শেষ করে বাসায় কখন পৌঁছাবো? কখন পড়াশোনা করবো? আমরা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী, যেনোতোনো পড়াশোনা করলে তো হবে না!
আরেক শিক্ষার্থী বলে, এসময় (৫টার পরে) অফিস আদালত সবকিছু ছুটি হওয়ায় গাড়ি পাওয়া খুব টাফ। আর সন্ধ্যায় ড্রাইভাররা বাসে মেয়েদের তুলতে চায় না। কোনোরকম ওঠা গেলেও দাঁড়িয়ে থাকেতে হয়। এভাবে যুদ্ধে করে বাসায় পৌঁছানোর নিশ্চয়তা কে দিবে? ক্যান্টনমেন্টের মতো নিরাপদ জায়গায় মানুষ খুন করা হয়। আর এখানে তো নিরাপত্তা শব্দটিই ‘অপরিচিত’!
এসময় শিক্ষার্থীদের নানা স্লোগান লেখা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা মর্নিং শিফটের জন্য পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হয়েছে। ডে শিফটে পড়তে হবে আগে থেকে বললেন এখানে ভর্তিপরীক্ষাই দিতো না!
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ সুফিয়া খাতুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, স্থান সঙ্কটরে কারণে মূলত সকালের শিফট দুই ঘণ্টা পিছিয়েছি। আমাদের এখানে বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হলে ক্লাস রুমের সঙ্কট থাকবে না।
হঠাৎ করে শ্রেণি কক্ষ সঙ্কটের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এখানে ক্লাসরুমের সঙ্কট বরাবরই ছিল। এবার শিক্ষার্থী সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে সময় পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।
শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট সমাধান না করেই নতুন করে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী কেনো নেয়া হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ১১ মাস ক্লাস করে। ৫ মাস ক্লাসের সময় থাকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য। এ ৫ মাসের মধ্যে আবার ঈদ-পূজার বন্ধও থাকে। দ্বাদশ শ্রেণির সময় কম অন্যদিকে আমাদের ক্লাস রুম সঙ্কটও দূর হয়ে যাচ্ছে। এসব বিবেচনায় শিক্ষার্থী বাড়ানো হয়েছে। আর প্রতি বছর তো শিক্ষার্থী বাড়ছে। স্বাভাবিকভাবে এ বৃদ্ধির চাপ সব ক্ষেত্রেই পড়ে। আমাদের এখানে ব্যবসা, মানবিক বিভাগও আছে।
তবে ক্লাসরুম সঙ্কটের বিষয়টি মানতে নারাজ শিক্ষার্থীরা। তারা অধ্যক্ষকে উদ্দেশ করে বলছে, এখন আমাদের এখানে আটটি সেকশন আছে। ক্লাসরুম ক্যাপাসিটিও তাই। এখন আপনি আরো দুটি সেকশন বাড়ালেন। কেনো? আপনি জানেন আপনার জায়গা নেই তাহলে কেনো বাড়াবেন সেকশন সংখ্যা?
সুফিয়া খাতুন জানান, তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি ভেবে দেখা হবে।
সুফিয়া খাতুন বলেন, ১০ জুলাই ক্লাস শুরু হবে। এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে সঙ্কট নিরসন করা হবে।


