বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

কে হচ্ছেন পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী?

Boris_Johnson_picturedগণভোটে ব্রিটেনের ইইউ-ত্যাগের ফয়সালা হয়ে যাওয়ার পর, পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। তিনি ইইউতে ব্রিটেনের রয়ে যাওয়ার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। প্রচারণা চালানোর সময়ই তিনি বলে আসছিলেন, ফলাফল যা-ই হোক না কেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীত্ব ছাড়বেন না। এমনকি গণভোটের পূর্বে তার প্রতি ক্ষমতাসীন টরি দলের ৮০ এমপির চিঠিতেও ছিল একই উদাত্ত আহবান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পদত্যাগেরই ঘোষণা দিলেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী। এবার প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে কে হবেন তাহলে পরবর্তী বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী?

বৃটেনের শীর্ষ রক্ষণশীল পত্রিকা দ্য টেলিগ্রাফ লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য প্রধান প্রার্থীদের তালিকা করতে খুব বেগ পেতে হয়নি? বিচারমন্ত্রী মাইকেল গোভ আগে বলেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রীত্ব তাকে টানে না। তবে রাজনীতিবিদদের মর্জি পরিবর্তন হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। মাইকেল গোভকে রক্ষণশীল শিবিরে বেশ ভালোভাবেই দেখা হয়। তবে দলের অনেকেরই আশঙ্কা, পুরো দেশের ভোট জেতার মতো যথেষ্ট ‘নরম্যাল’ তিনি নন।

পরেই আছেন বরিস জনসন, লন্ডনের সাবেক মেয়র। এই প্রভাবশালী ‘ইউরো-সন্দেহবাদী’ এবার ইইউ ছেড়ে বৃটেনের চলে যাওয়ার পক্ষে (ব্রেক্সিট) ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। বলতে গেলে ব্রেক্সিট প্রচারণার মূলব্যাক্তিই হয়ে উঠেন তিনি। ব্রেক্সিটের আগে থেকেই তাকে রক্ষণশীল টরি দলের পরবর্তী নেতা হিসেবে ভাবা হচ্ছিল। এমনকি হবু প্রধানমন্ত্রী বলতেও কুণ্ঠা বোধ করেননি অনেকে। ব্রেক্সিট প্রচারণায় তার অবদান ও প্রভাবের দরুণ তার সম্ভাবনা নিঃসন্দেহে আরও উজ্জ্বল। কনজারভেটিভ দলের পরবর্তী নেতা তথা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রকৃতপক্ষে তারই বেশি। কিন্তু প্রচারণার সময়, তিনি কিছু অসমীচীন কাজ করেছেন, যা তার সম্ভাবনার ক্ষতি করতে পারে। এরপরও জনমত জরিপ থেকে শুরু করে, জুয়াড়িদের বাজিতেও অন্যদের তুলনায় বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে আছেন তিনি।

Next-UK PM on rowঅনেকদিন ধরেই রক্ষণশীল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বরিস জনসনের। তবে মাইকেল গোভও হালের জনপ্রিয়তা ভোগ করছেন।

এর পরেই আছেন অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবোর্ন। যদিও দলীয় প্রভাবের দিক থেকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পিছিয়ে পড়েছেন তিনি। অপরদিকে ইইউতে রয়ে যাওয়ার পক্ষের প্রচারণা চালিয়েছেন যে প্রভাবশালী নেতারা, তারাও কনজারভেটিভহোম জনমত জরিপে ভালো করেননি। এ তালিকায় আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে ও সাজিদ জাভিদ। থেরেসা মে’কে গণভোটের আগেও অন্যতম সম্ভাবনাময় প্রার্থী ভাবা হতো।

তবে এ সমীকরণ উলটে যেতে পারতো যদি বৃটেন ‘রিমেইন’-এর পক্ষে ভোট দিতো।

আরও পড়ুন