শনিবার সকালে ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ট্রেনটি ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে বিরতিহীনভাবে চলাচল করবে। এ তথ্য জানান রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক।
তিনি জানান, শনিবার উদ্বোধন করা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হবে রোববার।
রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সোনার বাংলা এক্সপ্রেস সকাল ৭টায় ঢাকার কমলাপুর থেকে যাত্রা করবে এবং দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। ট্রেনটি বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ছেড়ে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছবে। ট্রেনটি ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন ছাড়া অন্য কোন স্টেশনে থামবে না।
ট্রেনটির পরিচালক ফারুক আহমদ জানান, বাংলাদেশের সবচেয়ে আরামদায়ক ট্রেন হবে ‘সোনার বাংলা’। যাত্রা হবে নির্ঞ্ঝাট ও আনন্দদায়ক। স্টেশন থেকে ছাড়ার পর ঘণ্টায় ৭২ কিলোমিটার গতি তোলার সময়ও যাত্রীরা টের পাবেন না। একইভাবে যখন ব্রেক করা হবে তখনও যাত্রীরা টের পাবে না যদি না গ্লাস দিয়ে বাইরে না তাকান।
এছাড়া ট্রেনের ভেতরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব ডিভাইস রয়েছে। রাখা হয়েছে ডিজিটাল অ্যালার্ম ব্যবস্থা। ট্রেনের পেছন থেকে একেবারে ইঞ্জিন পর্যন্ত যাত্রীরা অনায়াসে যাতায়াত করতে পারবেন।
ট্রেনটিতে মানসম্মত খাবর সরবরাহ করবে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। রমজান মাসে ইফতার বক্স দেওয়া হবে যাত্রীদের। এজন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না। ভাড়ার মধ্যেই এটা অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিদিন ট্রেন যাত্রার সময়সূচী:
কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে সকাল ৭টা ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে
এবং একই ট্রেন চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে বিকেল ৫টায় ছেড়ে ঢাকা পৌঁছাবে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে
ট্রেনে বগি ও সিট সংখ্যা:
ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা নতুন ১৬টি বগি দিয়ে আন্তঃনগর ট্রেনটিতে স্নিগ্ধা (শীতাতপ চেয়ার), শোভন চেয়ার, এসি বাথ মিলিয়ে ৭৪৬টি আসন রয়েছে। ট্রেনটিতে ভারত থেকে আমদানি করা ১৬টি যাত্রীবাহী কোচ থাকবে। এর মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচও থাকবে।
শোভন চেয়ারের মোট আসন ৪২০টি,
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) মোট আসন ২২০টি,
এসি বাথের আসন রয়েছে ৬৬টি
এছাড়া ট্রেন’টিতে শোভন চেয়ার- ৭টি কোচ
এসি স্নিগ্ধা- ৪টি কোচ
এসি বাথ- ২টি(আপাততঃ)
পাওয়ার কার + নামাজ ঘর- ১টি
গার্ড ভ্যান + খাবার কোচ + শোভন চেয়ার- ২টি
ক্যাটারিং সুবিধা:
এই ট্রেনের জন্য উন্নতমানের ক্যাটারিং সুবিধা প্রদানের জন্য দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ রেলওয়ের সাথে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ সরাসরি সম্পৃক্ত হয়েছে,২৮ জন দক্ষ এটেন্ডেন্স(আপ ও ডাউনে আলাদাভাবে ১৪জন)। এছাড়া এই ট্রেনে যাত্রীরা পাচ্ছেন সর্বোত্তম সেবা, এবং ফ্রি খাওয়া, ৫টি সেট মেন্যু হতে পছন্দমত যে কোন একটি বাছাই করতে পারবেন যাত্রীরা। মেন্যু গুলো হল-
১. ভেজিটেবল স্যান্ডউইচ + চিকেন কাটলেট + ৫০০মিলি মিনারেল ওয়াটার
২. প্লেন কেক/ফ্রুট কেক + ফ্রাইড চিকেন + ৫০০মিলি পানি
৩. ভেজিটেবল রোল + ফ্রাইড প্রর্ন + ৫০০মিলি পানি
৪. বোম্বে টোস্ট/ফ্রেঞ্চ টোস্ট + ফ্রাইড চিকেন + পানি
৫. ফ্রাইড রাইস + ফ্রাইড চিকেন + পানি
এই ৫টি আইটেম হতে যে কোন একটি যাত্রীরা নিতে পারবেন, যার জন্য আলাদাভাবে কোন মূল্য তাঁদের পরিশোধ করতে হবে না ট্রেনে।
সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে টিকেট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে:
এসি চেয়ারের ভাড়া ১১০০ টাকা,
এসি সিটের ভাড়া ১০০০ টাকা ও
শোভন চেয়ারের ভাড়া ৬০০ টাকা ।
ট্রেনে ক্যাটারিং এর জন্য ফ্রিজ, ওভেন। সর্বোপরি ট্রেন’টিতে সম্পুর্ণ নতুনত্ব ছোয়া পাবেন সম্মানিত যাত্রীরা। যারা এতদিন বিলাসবহুল বাস অথবা বিমানে চড়ে অভ্যস্ত, তারা খুব কম খরচে সেই একইমানের সেবা পাবেন ট্রেন’টিতে।
উল্লেখ্য, ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে সুবর্ণ এক্সপ্রেস নামে একটি বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের একমাত্র বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেস চালু হয়েছিলো ১৯৯৮ সালে। সুবর্ণ এক্সপ্রেসের ৭০১ নম্বর ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল ৭টায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছে। আর ৭০২ নম্বর ট্রেনটি ঢাকা থেকে বিকেল ৩টায় ছেড়ে চট্টগ্রাম আসে রাত সাড়ে ৮টায়।


