বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

হিন্দুদের জন্য সংসদে ৬০ সংরক্ষিত এমপি দাবি

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়য়ের অস্তিত্ব রক্ষায় এখনই তাদের মনোবল ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে অভিমত ব্যক্ত করে হিন্দু মহাজোট নেতৃবৃন্দ দাবি করেছে, জাতীয় সংসদে ৬০টি সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এতে করে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব সৃষ্টি হলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মানসিকভাবে স্বস্তি পাবে এবং তাদের মনোবল ফিরে পাবে বলে তারা মনে করেন। এছাড়া দুর্গা পূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করে সংবিধানে বর্ণিত সম-অধিকার ও সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতের দাবি জানান তারা।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের নেতৃবৃন্দ একথা বলেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জোটের মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক।

এদিকে জাতীয় হিন্দু জোটের অভিযোগ করেছেন, তাদের সংগঠনের নেতার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক, মিথ্যা ও মানহানিকর মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। তারা বিভ্রান্তিমূলক, মানহানিকর বক্তব্য প্রত্যাহার এবং দুঃখ প্রকাশ এবং ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান সংবাদ সম্মেলন থেকে। তা না হলে মিথ্যা বানোয়াট ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে হিন্দু সমাজের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনসহ ওই পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক এবং এই মিথ্যা তথ্য প্রচার কাজে সহায়তা করা ব্যক্তির বিরুদ্ধে হিন্দু মহাজোট আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২০ জুন একটি পত্রিকায় অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন লিখেছেন, গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক জামায়াতে ইসলামীর ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তারা এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান হয়।

এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয় অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন নানা ধরনের বিভ্রান্তিমূলক, মিথ্যা ও মানহানিকর মন্তব্য তুলে ধরেছেন আর ওই লেখায়। এধরণের উদ্দেশ্যপ্রনেদিত লেখা ও পত্রিকায় ছাপানোর জন্য হিন্দু মহাজোটের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সেইসাথে তারা অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তারা বলেন, গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক জামায়াতে ইসলামীর ধর্মবিষয়ক সম্পাদক তো দূরের কথা কোনো সদস্য পদে কখনো ছিলেন না। আর জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি ধর্মীয় সংগঠনের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক একজন হিন্দু লোক হবে এটা পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট দীনবন্ধু রায়, সিনিয়র সহ-সভাপতি মানিক চন্দ্র সরকার, ডাঃ মৃত্যুঞ্জয় রায়, সুভাষ সাহা, প্রধান সমন্বয়কারী বিজয় কৃষ্ণ ভট্টচার্য, সমন্বয়কারী সুবির কান্তি সাহা, সাংগঠণিক সম্পাদক কপিল মন্ডল, অর্থ সম্পাদক দেবাশীষ মন্ডল, প্রচার সম্পাদক শরনার্থী মন্ডল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রিপন দে, হিন্দু সাংস্কৃতিক মহাজোটের সভাপতি সাধন লাল দেবনাথ, হিন্দু, সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বসু, হিন্দু ছাত্র মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত হালদার, জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতির সাধারন সম্পাদক সোমনাথ দে প্রমুখ।

আরও পড়ুন